ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:১৮ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ভারতের টাকায় হবে আখাউড়া-আগরতলা রেলপ্রকল্প

বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আখাউড়া-আগরতলা রেলপ্রকল্পের পুরো অর্থই দেবে ভারত সরকার।বাংলাদেশ অংশে ১০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে জমি অধিগ্রহণসহ যাবতীয় অর্থ সরবরাহ করবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

আর ত্রিপুরার অভ্যন্তরে জমি অধিগ্রহণসহ ৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে অর্থ দেবে ডোনার মন্ত্রণালয়। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পে ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ হাজার কোটি  টাকারও বেশী।

বৃহস্পতিবার ভারতের পূর্বোত্তর রেলওয়ের বরাত দিয়ে শুক্রবার ত্রিপুরার দৈনিক ‘দেশের কথা’ পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ভারত সরকার আগেই ঘোষণা দিয়েছিল আখাউড়া-আগরতলা রেল প্রকল্পের পুরো অর্থ নিজেরাই বহন করবে। কিন্তু কোন্ অংশের অর্থ কোন্ মন্ত্রণালয় সরবরাহ করবে তা নিয়ে চলছিল দোলাচল।

অবশেষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী দফতর তা নিশ্চিত করেছে। ত্রিপুরার অভ্যন্তরের ৫ কিলোমিটার লাইন নির্মাণে জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে ৫৮০কোটি টাকা এরই মধ্যে মঞ্জুরও করে ভারত সরকার। ঠিক হয় এই টাকার পুরোটাই ডোনার মন্ত্রণালয় সরবরাহ করবে।

কিন্তু সম্প্রতি ত্রিপুরা সরকারকে লেখা ডোনার মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিকে ঘিরে দেখা দেয় প্রশ্ন? রাজ্য প্রশাসনের খবর অনুযায়ী ডোনার মন্ত্রণালয় রাজ্যকে চিঠি দিয়ে জানায় ত্রিপুরার অভ্যন্তরের ৫ কিলোমিটার রেললাইর নির্মাণের প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের মোট বরাদ্দকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ রাজ্যকে বহন করতে হবে।

যদিও রাজ্য সরকার সঙ্গে সঙ্গেই ডোনার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে এটা রাজ্যের পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব নয়। ভারত সরকার আগেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে পুরো অর্থ ভারত সরকারই দেবে। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থও মঞ্জুর করে ভারত সরকার। সুতরাং এখন এ বিষয়ে নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই।

২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের বাজেটেও আখাউড়া-আগরতলা রেল প্রকল্পের পুরো অর্থ ভারত সরকারই বহন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভু।

বৃহস্পতিবার  পূর্বোত্তর রেলওয়ের সূত্রটিও জানিয়েছে রেলের কাছে যে চিঠি এসেছে তাতে স্পষ্ট করে বলা আছে ত্রিপুরার অভ্যন্তরে ৫ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণে মঞ্জুরিকৃত ৫৮০কোটি টাকার পুরোটাই ভারতের ডোনার মন্ত্রণালয় সরবরাহ করবে। এর মধ্যে ত্রিপুরাংশে জমি অধিগ্রহণের ৯৭কোটি টাকাও ধরা আছে। রাজ্য প্রশাসনের খবর অনুযায়ী এখন অর্থ হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করে তা রেলের হাতে তুলে দেয়া হবে।

জানা যায়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে আখাউড়া-আগরতলা রেল প্রকল্প নিয়ে আগেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। দু’দেশর উচ্চ পর্যায়ের যৌথ প্রতিনিধি দলের সফরে চুড়ান্ত হয়েছে রেললাইনের অ্যালাইনমেন্টও। সে অনুযায়ী ত্রিপুরার দিকের লাইনটি আগরতলা রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিদ্ধিআশ্রম শ্মশান হয়ে সোজাসুজি চলে আসবে রাজ্যের চারিপাড়া-নিশ্চিন্তপুর।

এ নিশ্চিন্তপুরই হবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেলস্টেশন। এরপর নিশ্চিন্তপুর থেকে বাংলাদেশের গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে নতুন ৫ কিলোমিটার রেললাইন। এ রেলপথ নির্মাণের জন্য বাংলাদেশের স্থানীয় কৃষককের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে। আর বাকি ৫ কিলোমিটার রেলপথ হবে গঙ্গাসাগর রেল স্টেশন থেকে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন পর্যন্ত। বর্তমানে যে রেললাইন রয়েছে তার পাশ দিয়েই তৈরি হবে এ লাইন ।