ব্রিটিশ নাগরিকদের বাংলাদেশে চলাচলে সতর্কতা জারি

সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে বাংলাদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের চলাচলের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ  দিয়েছে যুক্তরাজ্য। অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের চলাচলের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়ার ৩ দিনের মাথায় ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তাদের নাগরিকদের প্রতি এই সতর্কতা জারি করা হলো।

যুক্তরাজ্যের দ্যা ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ অফিসের (এফসিও) এক বিবৃতিতে এ সতর্কতা জারি করা হয়।

ওই সতর্ক বার্তায় পশ্চিমা নাগরিকরা জঙ্গিদের লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশটির সরকারি ওয়েবসাইট গভ ডট ইউকেতে দেওয়া এক নির্দেশনায় বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হুমকির কথা বলা হয়েছে।

বিদেশিদের যাতায়াতের স্থানসহ আরো বিভিন্ন স্থানে নির্বিচার হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে ওই বার্তায়।

নির্দেশনায় বলা হয়- যুক্তরাজ্যের কাছে খবর এসেছে, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী সম্ভবত পশ্চিমাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার পরিকল্পনা করছে। এর প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য তার নাগরিকদের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত ও অংশগ্রহণ সীমাবদ্ধ করার পাশাপাশি বিভিন্ন হোটেল ও কনফারেন্স সেন্টারে একসঙ্গে বেশি নাগরিক জমায়েতে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে।

ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের (এফসিও) ইস্যু করা বৈদেশিক ভ্রমণ উপদেশে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে যুক্তরাজ্যের নাগরিক ও দেশটির স্থাপনায় আক্রমণের হার বেড়েছে। বিশেষত ইরাক ও সিরিয়ায় বিভিন্ন সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর উত্থানের পর যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের আরো সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন এবং ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশে ভ্রমণে না আসার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় সারাদেশে সংগঠিত সহিংসতা, সংঘর্ষ, হত্যা, পেট্রলবোমা নিক্ষেপের প্রেক্ষিতে এ পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিল ব্রিটিশ হাইকমিশন। হাইকমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর প্রায় ৭৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক বাংলাদেশ ভ্রমণ করে।

এর আগে শনিবার বাংলাদেশে বসবাসরত অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের চলাচলের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছিলো দেশটির সরকার।

বাংলাদেশে পশ্চিমা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ওপর হামলার আশঙ্কা করে  ওই সতর্কতা জারি করেছিলো অস্ট্রেলিয়া সরকার।

https://www.gov.uk/foreign-travel-advice/bangladesh