ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:১৬ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ব্যাংক লেনদেন কঠোরভাবে মনিটরিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গী ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে অর্থ যোগানদাতাদের চিহ্নিত এবং জঙ্গী অর্থায়ন বন্ধে ব্যাংকে লেনদেন কঠোরভাবে মনিটর করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ নির্দেশ দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসী ও জঙ্গী তৎপরতায় পৃষ্ঠপোষকরা দেশে ও দেশের বাইরে অর্থ স্থানান্তরে এখনো ব্যাংকগুলোকে ব্যবহার করছে। এজন্য ব্যাংকের লেনদেন নিবিড়ভাবে মনিটর করা উচিত এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নকারীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়গুলোর কাজে গতিশীলতা আনতে তাঁর প্রত্যেক মন্ত্রণালয় পরিদর্শন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বক্তৃতা করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ ও এর অধীনস্থ বিভিন্ন বিভাগে ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল জনরোষ এসব দলের অশুভ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে পারে।
তিনি বলেন, নিরাপরাধ মানুষ ও দেশের অর্থনীতি লক্ষ্য করে বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সম্পর্ক জনগণ সজাগ রয়েছে। জনগণ এ নৈরাজ্য প্রতিরোধ করতে শুরু করেছে। কেবল জনরোষেই বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য প্রতিহত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার রয়েছে। কারণ আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর ও মর্যাদাশীল হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব। আমরা এ কথা মনে রেখে দেশ পরিচালনা করি।
তিনি বলেন, জনগণ বিএনপি-জামায়াতের সংঘটিত হামলায় উদ্বিগ্ন। তারা রাজনীতির নামে হত্যা, পেট্রোল বোমা হামলা ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকরসহ সব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ইসলামের নামে রাজনীতি করছে। কিন্তু তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা ইসলাম কখনো সমর্থন করে না।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের জন্য বিএনপির কোন সহানুভূতি নেই। কারণ এদেশ সৃষ্টিতে দলটির কোনো আত্মত্যাগ নেই। অন্যের ত্যাগের বিনিময়ে তারা এদেশ পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সামরিক একনায়ক জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বিএনপি গঠন করে।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী ছিল দখলদার বাহিনীর দালাল ও দোসর। তারা দখলদার বাহিনীর লালসা মেটাতে আমাদের মা-বোনদের পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে তুলে দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী। এজন্য এ দলগুলোর দেশরক্ষা ও দেশের ভবিষ্যত বিনির্মাণের কোন দায়িত্ব নেই। বিএনপি-জামায়াত কেবল দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ-সম্পদ লুট করে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে জানে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সাম্প্রতিক সহিংসতার মাত্রা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। বিএনপি ও জামায়াত দেশের বর্তমান অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি আগের যেকোন সময়ের চেয়ে অনেক ভাল। দেশের সকল সূচক দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে অনেক ফার্স্ট ট্রাক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশ সঠিক অবস্থানে থাকলে এই অঞ্চলে অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক আগেই উন্নত হতো। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পরই এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে সামরিক সরকার দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা শুরু করে। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর দেশের অর্থনীতি সঠিক অবস্থানে আসে। বাংলাদেশ এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে একটি উন্নয়ন মডেল।
আওয়ামী লীগ সরকার বিগত দুটি মেয়াদে যুগান্তকারী অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করায় দেশের অগ্রগতি হয়।
শেখ হাসিনা ফার্স্ট ট্রাক প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমর্থন কামনা করে বলেন, এ সকল প্রকল্প বাস্তবায়নে তহবিল সংগ্রহে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি স্বাভাবিক রাখায় সরকারি কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ২০০৫-২০০৬ সালে আমাদের জাতীয় বাজেট ছিল ৬১.০৫৭ কোটি টাকা। এই বাজেট বেড়ে চলতি অর্থবছরে হয়েছে ২,৫০,৫০৬ কোটি টাকা।
প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী চার বছরের মধ্যে দেশের দারিদ্র্যের হার দশ ভাগে নামিয়ে আনতে তার সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে পারলে একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে আর কেউ বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করতে পারবে না। তিনি বলেন, সমাজ থেকে দরিদ্র নির্মূল করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে।। ৫ কোটি মানুষ তাদের অবস্থান নিম্ন আয় থেকে মধ্যম আয়ে নিয়ে গেছেন। সার্বিক দারিদ্র্য হার কমে ২৪ ভাগ হয়েছে। অতি দরিদ্রের হার ১০ ভাগ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ও জামায়াত দেশের সম্পত্তি ধ্বংস করছে। নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে। তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো দেশকে ১৯৭১ সালের অবস্থানে ঠেলে দেয়া। সে সময়ে তারা গণহত্যা চালিয়েছিল এখন নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে।