Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:২০ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

আবুল মাল আব্দুল মুহিত
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, ফাইল ফটো

‘ব্যাংক একাউন্টমতে দেশে লাখেরও বেশী কোটিপতি’

চার বছরে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকার হিসাব সংখ্যা ৩৬ হাজার বেড়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এক প্রশ্নের উত্তরে সোমবার সংসদে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বতর্মানে বাংলাদেশে তফসিলি ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকার হিসাব সংখ্যা (আমানত+আগাম) ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬৫টি। মন্ত্রী বছরওয়ারি যে হিসাব তুলে ধরেছেন, তাতে দেখা যায় ২০১১ সালে কোটি টাকার হিসাব ছিল ৭৮ হাজার ১৫০টি। কোটি টাকার হিসাব ২০১২ সালে ৯০ হাজার ৬৫৫টি, ২০১৩ ‍সালে ৯৮ হাজার ৫৯১টি, ২০১৪ সালে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৭৪টি ছিল। বর্তমানে ব্যক্তি পর্যায়ে করদাতার সংখ্যা ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৫০৩ জন বলে সংসদে জানান অর্থমন্ত্রী। ব্যক্তি পর্যায়ে চলতি বছরের জুন নাগাদ প্রায় ৩ লাখ নতুন করদাতা শনাক্ত করা হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানি পর্যায়ে ২২ হাজার ১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২০ হাজার ৮৩২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ২ হাজার ৯৯৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বৈদেশিক সহায়তা ৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেড়েছে বলেও অর্থমন্ত্রী জানান। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ ছিল ১৫০১.৬১ মিলিয়ন ডলার। এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ১৫৯২.৪১ মিলিয়ন ডলার। এ বছর প্রাপ্ত বৈদেশিক সহায়তার মধ্যে ২৯৮.৮৩ মিলিয়ন ডলার অনুদান এবং ১২৯৩.৫৭ মিলিয়ন ডলার ঋণ হিসেবে এসেছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, গত বছরে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফার পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৮৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সব থেকে বেশি লোকসান দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক। গত বছর এ ব্যাংকটি ২৩৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে। এছাড়া কৃষি ব্যাংক ১৫৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ২৫ কোটি ৬২ লাখ ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ৪৬ দশমিক ৮৫ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে। ৫৬টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে সব চেয়ে বেশি লাভ করেছে ইসলামী ব্যাংক। এ ব্যাংকটি গত বছর মুনাফা করেছে ১ হাজার ৮০৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। লাভের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, তারা লাভ করেছে ১ হাজার ৬৫০ কেটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেশি লাভ করেছে জনতা ব্যাংক। এ ব্যাংকটির লাভের পরিমাণ ১ হাজার ১৫২ কোটি ৬ লাখ টাকা।