ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:৪৯ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ব্যাংকিং লেনদেনে কঠোর নজরদারি

ব্যাংক লেনদেনে কঠোরভাবে নজরদারি বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে। স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৬ ধারা সম্পর্কে। বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন হলেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৬ ধারা প্রয়োগ করা হবে। সর্বাধিক ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা এমডিকে অপসরণ করার বিধান রয়েছে এ ধারায়।

ব্যাংকারেরা জানিয়েছেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকের শাখা রয়েছে। এসব শাখার মাধ্যমে গ্রাহক তার নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করে কী কাজে ব্যবহার করবেন সেটা গ্রাহকের ব্যক্তিগত বিষয়। ব্যাংক শুধু দেখবে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট টু অ্যাকাউন্ট। অর্থাৎ গ্রাহকের কোনো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কাজে অর্থ লেনদেন করে কি না সেটা খতিয়ে দেখবে।

ব্যাংকারদের মতে, ব্যাংক ব্যবহার করে সমাজে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করুক এটা কারো কাম্য নয়। কারণ দেশের প্রতিটি সচেতন মানুষ চান শান্তি। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নির্দেশনা জারি করেছে এটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। ইতোমধ্যেই তার ব্যাংক থেকে অধিক মাত্রায় সতর্ক থাকার জন্য শাখা পর্যায়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। কেউ যেন ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট হোক এমন কর্মকাণ্ড না করতে পারে সেজন্য অধিকতর সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।  ব্যাংক সতর্ক থাকলে সহজেই অর্থ লেনদেন করতে পারবে না বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা।

এ দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গতকাল ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৬ ধারা প্রয়োগ করা হবে। এ আইনের ১৬ ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যাংকের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত হলে স্বপ্রণোদিত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগকে (বিএফআইইউ) রিপোর্ট করতে হবে। ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ বা পরিচালনা পরিষদের অনুপস্থিতিতে প্রধান নির্বাহী তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সম্পর্কিত নির্দেশনা জারি করবে এবং বিএফআইইউ কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা প্রতিপালন করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করবে। কোনো ব্যাংক ওই বিধান পরিপালনে ব্যর্থ হলে বিএফআইইউ অনধিক ২৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা, সেবাকেন্দ্র, বুথ বা এজেন্টের লাইসেন্স স্থগিত করতে পারবে। কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্পিত দায়িত্ব পালন না করলে চেয়ারম্যান বা  ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহীকে অনধিক ২৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং তার পদ হতে অপসারণ করার বিধানও ওই আইনে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এমডিদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, দেশের যেসব জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে সেসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে অবস্থিত ব্যাংকের শাখাগুলোকে আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে। ওই সব অঞ্চলের গ্রাহকদের গত ছয় মাসের লেনদেন বিশেষভাবে তদারকি করে কেন্দ্র্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে। ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিবিধানগুলোর প্রধান পরিপালন কর্মকর্তাদের সাথে আরো বাড়াতে হবে সমন্বয়। কোনো গ্রাহকের হিসাবের মাধ্যমে যাতে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন করতে না পারে সে বিষয়েও ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে গ্রাহক ও জনগণের মধ্যে প্রচার চালাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে।

একই সাথে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিষয়ে বলা হয়, এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ স্থানান্তর হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাংক ও এজেন্টগুলোকে বেশ সতর্ক থাকতে হবে। মোবাইল ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে অবশ্যই ‘তোমার গ্রাহককে জানো’ বা কেওয়াইসি পরিপূর্ণভাবে রাখতে হবে। কেওয়াইসি ছাড়া কোনো লেনদেন করা যাবে না।