ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:৫৭ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ব্যাংকিং খাতে মূলধন বেড়েছে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে মূলধনের পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৪ সাল শেষে সংরক্ষিত মূলধনের পরিমাণ ৭১ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০১৩ সালে এর পরিমাণ ছিল ৬৫ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকিং খাতে সংরক্ষিত মূলধনের পরিমাণ ৬ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
নিয়ম অনুযায়ী ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ১০ শতাংশ হারে মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ছাড়া সার্বিক মূলধন পর্যাপ্ততার হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকগুলোর মুনাফার অংশ মূলধনে স্থানান্তর, পুনঃমূলধনীকরণ ও প্রভিশন ঘাটতি কমার কারণে ব্যাংকের সংরক্ষিত মূলধন বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৪ সালের জানুয়ারি-মার্চ শেষে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর মূলধন সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ৬২ হাজার ১৯৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এসময়ে ব্যাংকগুলোর ছিল ৬৪ হাজার ৫৭৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা। সে হিসেবে ২০১৪ সালের মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর মূলধন উদ্বৃত্ত ছিল দুই হাজার ৩৭৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ।
এপ্রিল-জুন শেষে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে মূলধন সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ৬৪ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। এসময়ে ব্যাংকগুলোর মূলধন ছিল ৬৩ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা। সে হিসেবে জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে মূলধন ঘাটতি ছিল ৮৪৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
জুলাই-সেপ্টেম্বরে মূলধন ঘাটতির পরিমাণ এক হাজার ৯৬ কোটি টাকা বেড়ে ৬৪ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। কিন্তু বছর শেষে সে ঘাটতির পরিমাণ ৬ হাজার ৮২১ টাকা কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বাসসকে বলেন, সামগ্রিক বিবেচনায় ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ মূলধন সংরক্ষণ করেছে তা আগের তুলনায় ভালো। ব্যাংকের ভবিষ্যত ঝুঁকি মোকাবেলায় ন্যুনতম মাত্রার চেয়ে বেশি হারে মূলধন সংরক্ষণ করা উচিত। কারণ ঝুঁকি মোকাবেলায় যে কোন ব্যাংকের উচ্চ মূলধন থাকা জররী। কেননা এর আগে শুধুমাত্র ঋণ ঝুঁকির বিপরীতে মূলধন সংরক্ষণ করতে বলা হতো। বর্তমানে ঋণ, বাজার ও পরিচালন ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। তাই বর্তমানে ব্যাংকগুলো আগের থেকে ভালো অবস্থানে আছে বলে তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বের ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি কমাতে প্রথম পর্যায়ে ব্যাসেল-১ এবং ২০১১ সালের জুলাই থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে ব্যাসেল-২-এর আলোকে মূলধন সংরক্ষণ শুরু হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে দেশের ব্যাংকগুলোকে ব্যাসেল-২ আলোকে মূলধন সংরক্ষণ করতে হতো। নিয়ম মেনে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে বর্তমানে ন্যুনতম ৪০০ কোটি টাকা অথবা ঝুঁকি ভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ যেটি বেশি সে পরিমাণ অর্থ মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। চলতি ২০১৫ সাল থেকে ব্যাসেল-৩ বাস্তায়নের জন্য প্রস্তুতি চলছে।