Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:৫৭ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

আবুল মাল আব্দুল মুহিত
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, ফাইল ফটো

ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হলে কাঙ্খিত রাজস্ব আয় হবে না

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন। আপনাদের সহযোগিতা আমাদেরকে অনুপ্রানিত করবে।

 

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোট যে হরতাল-অবরোধ করছে, এটি কোন রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। তারা মূলত প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে আন্দোলনের নামে এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে।
তিনি বলেন,‘এই অবস্থায় দেশের অভ্যন্তরে এখন চলাফেরা করা খুব বিপদজনক হয়ে গেছে। আমরা এই মহাবিপদ থেকে পরিত্রাণ চাই।’ তিনি এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধে সরকারের পাশে এসে দাঁড়াতে জনগণের প্রতি আহবান জানান।
সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক কাস্টমস্ দিবস উপলক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ, এনবিআর সদস্য মো. ফরিদউদ্দিন ও খন্দকার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান বক্তব্য দেন।
অর্থমন্ত্রী বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী রাজনৈতিক জোটের উদ্দেশ্য বলেন,‘আপনারা এই সহিংস কর্মকান্ড বন্ধ করুন। এই অবস্থা চলতে থাকলে এক পর্যায়ে তা সীমা ছাড়িয়ে যাবে। তখন আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।’ তিনি দেশের স্বার্থে এ ধরনের সহিংস তৎপরতা বন্ধে আন্দোলনকারীদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে মুহিত বলেন, রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে শুল্কের গুরুত্ব দিন দিন কমছে। কিন্তু সীমান্ত ব্যবস্থায় এর গুরুত্ব বেড়েছে। জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসীরা যেন কোন ধরনের অবৈধ অস্ত্র নিয়ে দেশে না ঢুকতে পারে, এজন্য তিনি পুলিশের পাশাপাশি কাস্টমস্ কর্মকর্তাদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সেবা দিতে না পারলে, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হবে। এতে রাজস্ব আয়ের কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস ও নাশকতা সৃষ্টি করে একটি অশুভ শক্তি দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করতে চায়। তবে তাদের এই প্রচেস্টা সফল হবে না।
তিনি বলেন, যে শুল্ক আইন করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে করতে হবে। যাতে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমরা আরো বেশি সম্পৃক্ত হতে পারি।
বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে। অর্থনীতি এখন কৃষি থেকে শিল্পের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রফতানি বাণিজ্য দ্রুত বাড়ছে। এতে শুল্ক রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় নতুন দক্ষতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, এই দক্ষতা কিভাবে অর্জন করা যায়, তা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। এ জন্য তিনি রাজস্ব নীতির ওপর গবেষণা পরিচালনায় একটি সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ শুল্ক ব্যবস্থাপনায় রাজস্ব প্রদান ব্যবস্থা আরো সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে রাজস্ব আহরণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শুল্ক প্রশাসনের ১৬ কর্মকর্তা এবং ৪ স্টেকহোল্ডারকে বিশ্ব কাস্টমস্ সংস্থার (ডব্লিউসিও) সার্টিফিকেট অব মেরিট প্রদান করা হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় কাস্টমস্ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি সেগুনবাগিচা এনবিআর কার্যালয় থেকে বের হয়ে মৎস্য ভবন ঘুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।