ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:১১ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফখরুলকে - আইনমন্ত্রী
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর - আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক

ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আইন করা হয় না, ফখরুলকে – আইনমন্ত্রী

নাগরিকত্ব আইন, ২০১৬ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশ্ন তুলে গতকাল বলেছিলেন এই আইনের উদ্দেশ্য কী? একটি নির্দিষ্ট পরিবার বা কিছু ব্যক্তি বা শাসকগোষ্ঠীর কিছু মানুষকে শুধু প্রটেকশন দেয়ার জন্যই এই আইন করা হচ্ছে।’ এর জবাবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে কোনো আইন প্রণয়ন করে না। তিনি বলেন, সরকার দেশের কল্যাণের জন্য আইন প্রণয়ন করে।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকাস্থ দেবীদ্বার উপজেলা কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সব সময়ই গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করে এবং নেতিবাচক সমালোচনা পরিহার করে। সে ক্ষেত্রে বিএনপি কেন, যেকোনো দল নাগরিকত্ব আইনের বিষয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করলে তা গ্রহণ করতে সরকার দ্বিধাবোধ করবে না।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার নাগরিকত্ব আইনের সমালোচনা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুলশানের একটি মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন, ২০১৬ খসড়া নিয়ে ‘নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিএনপি-সমর্থক শিক্ষাবিদ, আইনজীবীসহ পেশাজীবীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘এই আইনের উদ্দেশ্য কী? এই আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে- তাদের (শাসকদল) ক্ষমতাকে আরও বেশি সংহত করা, শাসক গোষ্ঠীর নিরাপত্তা প্রদান করা।’

‘অনেকে বলেছেন- কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবার বা কিছু ব্যক্তি বা শাসকগোষ্ঠীর কিছু মানুষকে শুধু প্রটেকশন দেয়ার জন্যই এই আইন করা হচ্ছে’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটা পরিষ্কার- আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে সুপরিকল্পিতভাবে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে যাচ্ছে। অন্য কোনো মত, অন্য কোনো পথ থাকবে না। তাদের চিন্তার মানুষগুলোই থাকবে- সেই লক্ষ্যে তারা একটার পর একটা আইন করে চলেছে।’

নাগরিকত্ব আইনের খসড়ায় প্রবাসীদের বিষয়ে প্রস্তাবনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই খসড়ায় প্রবাসীদের কথা বলা হয়েছে- তারা দেশে ফিরে আসলে ছয় বছরের আগে কোনো রাজনৈতিক দল করতে পারবে না, কোনো সংগঠন করতে পারবে না এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতে পারবে না।’

‘এরকম একটা অদ্ভূত আইন এটি। মানুষের অধিকার হরণের এই রকমের আইন হতে পারে না- এটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না’ বলেন মির্জা ফখরুল।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারি নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রবাসীদের সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠক করা হবে। ওই বৈঠকে তাঁদের বক্তব্য শুনে নাগরিকত্ব আইনের যেসব ধারা পরিবর্তন করা যুক্তিসংগত মনে হবে, সেই সব ধারা নিশ্চয়ই পরিবর্তন করা হবে।

ঢাকাস্থ দেবীদ্বার উপজেলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী এ বি এম গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সাবেক অর্থ উপমন্ত্রী এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী, কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের, সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি আবু বাশার ভূঁইয়া বক্তৃতা করেন।

 

 

সম্পর্কিত সংবাদ

নাগরিকত্ব আইন বানানোর উদ্দেশ্য কী?