Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:৫৮ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

বৈশ্বিক চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈশ্বিক চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনার জন্য উদ্ভাবনী ধারণা, জ্ঞান ও গুণগত মান রক্ষার কৌশল নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আপনাদেরকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পণ্যের বাজার অনুসন্ধান এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী সেসব পণ্য উৎপাদন করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য নতুন জ্ঞান ভিত্তিক কৌশল অবলম্বন করতে হবে।
আজ এখানে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ) উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাথা উঁচু করে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদেরকে এখন আমাদের রফতানি বহুমুখীকরণ এবং প্রচলিত ও অপ্রচলিত পণ্যের জন্য নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে হবে। আমাদেরকে অভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমাদের ব্যবসার ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ও কার্যকর হতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো (বিইপিবি) তাদের যৌথ উদ্যোগে ২১তম এই মেলার আয়োজন করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সংসদে বিরোধী দলের চীফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাণিজ্য সচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুন, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবর্গ, উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, কূটনীতিকবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও রপ্তানীকারক নেতৃবৃন্দ এবং দেশ-বিদেশের অংশগ্রহণকারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে ডিআইটিএফ এখন স্বীকৃত। এটি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সুযোগ এনে দিয়েছে এবং উৎপাদন ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করারও সুযোগ পেয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের ব্যবসা হতে হবে প্রতিযোগিতামূলক ও মানসম্পন্ন। আমাদের অবশ্যই আমাদের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ মানের পণ্য ও সর্বোচ্চ সেবা দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী পণ্যের মান, ব্র্যান্ড এবং উৎপাদন সম্পর্কে বিশেষ সতর্ক থাকতে উৎপাদকদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আমরা আমাদের নিজস্ব ব্র্যন্ডে পণ্য রফতানি করতে পারলে আমাদের জন্য সহজ ও লাভজনক হবে। এতে রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বিদেশে আমাদের পণ্যের বাজার বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রচলিত কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিদেশে কৃষি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে আমাদের প্রচলিত ও অপ্রচলিত কৃষি পণ্যের জন্য নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি মানসম্পন্ন ব্যবস্থাপনা, উৎপাদিত পণ্যের মান উন্নয়নের জন্য গবেষণা ও সমীক্ষা চালানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা এবং যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে আমাদের ব্যবস্থাপনার দক্ষতা আরো বাড়াতে হবে।
শেখ হাসিন বলেন, তাঁর সরকার ব্যবসা করতে আসেনি। এ কাজটি ব্যবসায়ীদের। সরকার শুধুমাত্র ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে।
প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, তাঁর সরকার একটি রফতানি বান্ধব নীতি প্রণয়ন করছে। সরকার আগামী দিনগুলোতে এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিকে থাকার ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করার মতো সক্ষমতা অর্জনে স্থানীয় শ্রমিকদের আরো দক্ষ ও বুদ্ধিসম্পন্ন হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রাচীন ব্যবসায়িক ইতিহাসের উল্লেখ করে বলেন, আমাদের মসলিন পৃথিবীর বিখ্যাত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজা-বাদশারা এই বস্ত্র ব্যবহার করতেন। আমাদের পাট, চামড়া এবং কৃষিপণ্য ইউরোপে বিভিন্ন মিল-কলকারখানায় কাঁচা পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হওয়ার বিষয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধুমাত্র উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় ভালো করছে তাই নয়- কোন কোন ক্ষেত্রে কিছু উন্নত দেশের চেয়েও ভালো করছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামাত জোট আমলের শেষ বছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার যা বর্তমানে ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে । ৫ কোটি মানুষ নিম্ন -আয়ের স্তর থেকে মধ্যম আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে। বিএনপি-জামাতের শেষ বছরে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১.৫ শতাংশ। আমরা তা কমিয়ে ২২.৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। ২০০৬ সালে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪.২ শতাংশ। তা এখন কমে ৭.৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশকে বিশ্বের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দেশগুলোর তালিকার প্রথমদিকে স্থান দিয়েছে।
প্রাইস ওয়াটারহাউজ কুপার্স মনে করছে পরবর্তী এগারটি দেশের তালিকায় প্রথমে থাকা বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০৫০ সালে পশ্চিমা দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে।
সার্কের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় দারিদ্র্য দূরীকরণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
সিটি ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চ এন্ড এনালিসিস বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্রুত প্রবৃদ্ধির দিকে অগ্রসরমান দেশগুলোর তালিকায় প্রথম দিকে স্থান দিয়েছে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, আইএমএফ, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং জেপি মর্গ্যান বাংলাদেশকে অপার সম্ভাবনাময় দেশগুলোর তালিকায় প্রথম সারিতে যুক্ত করেছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে রপ্তানি আয় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান রপ্তানির প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান করে নিতে পারবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, রপ্তানিকারক, গবেষক ও দেশী-বিদেশী প্রযুক্তবিদগণ সর্বাধুনিক ধ্যান-ধারণা ও প্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসবেন।
পরে, প্রধানমন্ত্রী মেলায় বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।