ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:২১ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

রথম বারের মত সব দেশ কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনবে বলে অঙ্গিকার করেছে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রির নিচে রাখতে একমত বিশ্ব নেতারা

বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করে জলবায়ু চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। দুই সপ্তাহ আলোচনার পর বিশ্ব নেতারা এমন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছান। চূড়ান্ত খসড়া চুক্তিটি ফ্রান্সের প্যারিস সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মাঝে উপস্থাপন করা হয়েছে। খবর বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্সের।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরা ফ্যাবিয়াস বলেন, জলবায়ু চুক্তির চূড়ান্ত খসড়াটি ন্যায্য, আইনগতভাবে বাধ্য এবং ইতিবাচক অর্থে এটি বিশ্বের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে কাজ করবে। তিনি বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমরা একটি উচ্চাভিলাষী এবং ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। ঐতিহাসিক এ চুক্তিটি নিয়ে ব্যাপক আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে। তবে দেশগুলো এখনও আপত্তি তুলতে পারে। ২০২০ সালে চুক্তিটি কার্যকর হবে। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এটি পর্যালোচনা করা হবে।
প্রায় ২০০ দেশের সবাই গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে প্রথম জলবায়ু চুক্তিতে উপনীত হন। এসব দেশের মন্ত্রীরা প্রস্তাবিত চুক্তিটি অনুমোদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। দেশগুলোর আকাঙ্ক্ষা, অর্থ এবং আস্থা নিয়ে বিভাজন হ্রাস করতে চেষ্টা চালিয়েছে জাতিসংঘ।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ১০০ বিলিয়ন ডলার (৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা) দিতে হবে। উন্নত দেশগুলোর এ অর্থ দেয়ার বিষয়টি শুনে উন্নয়নশীল দেশগুলো খুশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরা ফ্যাবিয়াস দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বলেন, ঐতিহাসিক চুক্তিটি আমাদের উদ্দেশ্য নিশ্চিত করেছে। কেননা, এটি ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিবিসির সংবাদদাতা জানান, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখার বিষয়টি সমর্থন করলেও তাপমাত্রা যেন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে বৃদ্ধি না পায় তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করার বিষয়ে সম্মত হয়।
এর আগে লরা ফ্যাবিয়াস জানান, প্যারিস সম্মেলনে চুক্তি সই হলে সংগ্রহ করা হবে তহবিল, সেই তহবিল ব্যয় হবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জীবনমান উন্নয়নে।
জলবায়ু চুক্তির খসড়া প্রস্তাবনাটিকে অভূতপূর্ব উল্লেখ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দ। বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জলবায়ু বিষয়ে প্রথম সর্বজনীন চুক্তিকে মেনে নিতে ফ্রান্স আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেন, আমাদের অবশ্যই পৃথিবী নামক গ্রহটি রক্ষা করতে হবে। কেননা এটিই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে।
৩০ নভেম্বর থেকে প্যারিসে জাতিসংঘের উদ্যোগে জলবায়ু সম্মেলন শুরু হয়। ১১ ডিসেম্বর সম্মেলন শেষ হওয়ার কথা ছিল। এটি ছিল বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণে সম্মেলনের ২১তম পর্ব যাকে সংক্ষেপে সিওপি২১ বা কপ২১ (কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস, টোয়েন্টিওয়ান) বলা হচ্ছে।
এবারের সম্মেলনে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশ্বের ১৯০টির বেশি দেশ অংশ নেয়। মানুষের তৎপরতার কারণে গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এ গ্যাসের নিঃসরণ মাত্রা কমিয়ে আনার বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছানো সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য ছিল।