ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:৫৭ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী

বৈঠক বাতিল হওয়া নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ ভারত-পাকিস্তানের

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নির্ধারিত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক বাতিল হয়ে যাওয়ার প্রায় চব্বিশ ঘন্টা পরেও তা নিয়ে পারস্পরিক দোষারোপ এখনও চলছে।

ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই বলছে, অন্য পক্ষের অনড় মনোভাবের জন্যই এই বৈঠক শেষ পর্যন্ত সম্ভব হল না।

দিল্লির বৈঠকে যোগ দিতে এসে পাকিস্তানি নিরাপত্তা উপদেষ্টা সরতাজ আজিজ ভারত-শাসিত কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী হুরিয়ত নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন কি না – মূলত এই প্রশ্নের জট না-খোলাতেই বৈঠকটি বাতিল হয়ে যায়।

রবিবার দুপুর থেকেই দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে শুরু হওয়ার কথা ছিল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বহুপ্রতীক্ষিত আলোচনা – গত মাসে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা রাশিয়ার উফা-তে যে বৈঠকে বসতে একমত হয়েছিলেন।

তার বদলে হায়দ্রাবাদ হাউসের চত্বর আজ একেবারেই সুনসান – কারণ প্রায় আটচল্লিশ ঘন্টা ধরে চলা চরম নাটকীয়তার পর পাকিস্তানি নিরাপত্তা উপদেষ্টা সরতাজ আজিজ শেষ পর্যন্ত আর আসেননি।

পাকিস্তানের যুক্তি, বৈঠকের আগেই ভারত যে সব শর্ত জুড়ে দিয়েছে তাতে কোনও অর্থপূর্ণ আলোচনা সম্ভবই নয়। আবার বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার জন্য ভারতও এদিন পাল্টা দুষেছে পাকিস্তানকেই।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং আজ বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কথা হয়েছিল দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মধ্যে বৈঠক হবে – সেখানে কোনও তৃতীয় পক্ষ থাকবে না। তারপরও যদি কেউ জেদ ধরেন বৈঠকের আগে বা পরে অন্যদেরও সঙ্গে কথা বলতে দিতে হবে, তা তো মানা সম্ভব নয়।’

রাজনাথ সিং যে তৃতীয় পক্ষ বা অন্যদের কথা বলছেন – এরা হলেন ভারত-শাসিত কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী হুরিয়ত কনফারেন্সের নেতারা।
পাকিস্তান তাদেরকে সরতাজ আজিজের সঙ্গে চা-চক্রে যোগ দেওয়ার জন্য দূতাবাসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু যে হুরিয়ত নেতারা শ্রীনগর থেকে দিল্লিতে পা রেখেছিলেন গতকালই তাদের আটক করা হয়।

কিন্তু শুধু হুরিয়ত নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তা ঠেকানোর জন্য পুরো বৈঠকটাই কেন ভারত বাতিল করে দেবে – এটা ইসলামাবাদের বোধগম্য নয় বলে বলছিলেন পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষক শরাফত চৌধুরী।

মি চৌধুরীর যুক্তি, ‘যখনই পাকিস্তানের কোনও নেতা বা প্রতিনিধি ভারতে গেছেন তারা প্রায় প্রত্যেকবারই নিয়ম করে হুরিয়ত নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন – আর এটা পাকিস্তানের একটা নীতিও বটে। তো সরতাজ আজিজ যদি এবারেও তাদের সঙ্গে কথা বলতেন তাতে ভারত এত অরক্ষিত বোধ করবে কেন এটাই আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।’

ভারত আবার বলছে, ১৯৭২র সিমলা চুক্তি অনুযায়ী এই দুই দেশের আলোচনায় তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা থাকতে পারে না, আর কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের তৃতীয় পক্ষের মর্যাদা দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।

পাকিস্তান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক বিবেক কাটজুর অভিমত – আগে হুরিয়ত নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়েছে বলে এখনও দিতে হবে এমন কোনও কথা নেই।

মি কাটজুর মতে, ‘হুরিয়ত নেতারাই কাশ্মীরের মানুষের প্রকৃত প্রতিনিধি, পাকিস্তানি নেতারা এমন কোনও ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করলে ভুল করবেন। আগেই বরং ভারত এ ব্যাপারে নরম মনোভাব দেখিয়েছে, এখন সেটা শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলছেন, ‘পৃথিবীর কোনও দেশই তার বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের বিদেশি দূতের সঙ্গে দেখা করতে দেয় না – বিশেষ করে তাদের আলাদা মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা হলে তো আরওই নয়।’

এই হুরিয়ত-বিতর্কের জেরেই শেষ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান বৈঠক আবারও ভেস্তে গেল – এই নিয়ে গত এক বছরের মধ্যে দুবার।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্তে তারা খুবই হতাশ – এবং শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার জন্য তারা দুই দেশকেই উৎসাহ দেবেন।

কিন্তু এই না-হওয়া বৈঠককে ঘিরে দুদেশের মধ্যে যে পরিমাণ তিক্ততা আর একগুঁয়েমি দেখা গেছে তাতে অচিরেই তাদের আলোচনার টেবিলে ফেরার কোনও ইঙ্গিত কিন্তু চোখে পড়ছে না। বিবিসি বাংলা।