ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:৩০ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২১শে আগস্ট ২০১৮ ইং

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থান করতে হবে

‘শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, বেসরকারি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সচেতনতা তৈরী করতে হবে। পত্র-পত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশন ও অনলাইনে প্রতিবন্ধীদের কার্যক্রমের সাফল্য ও তাদের ইতিবাচক বক্তব্যগুলো গুরুত্ব সহকারে সম্প্রচার ও প্রকাশের মাধ্যমে এই সচেতনা তৈরীতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’

‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান : গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা প্রতিবন্ধী মানুষের চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবন মান উন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত কর্মসূচির প্রশংসা করে এসব কথা বলেছেন।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

আজ রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স রুমে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের উদ্যোগে অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও ডিজএবিলিটি রাইটস ফান্ড (ডিআরএফ)-এর সহযোগিতায় এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি মেজর (অব:) ইয়াদ আলী ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফোরামের সমন্বয়কারী (কর্মসূচি) মো. মোশাররফ হোসেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

প্রতিবন্ধী ফোরামের মহাসচিব ড. সেলিনা আখতারের সঞ্চালনায় সভায় সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রতিষ্ঠান ও প্রতিবন্ধিতা) সুশান্ত কুমার প্রামাণিক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ, এটিএন বাংলার উপদেষ্টা মীর মোতাহার হোসেন, সাইট সাইভার্স-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর খন্দকার আরিফুল ইসলাম, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারি সচিব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো: স্বপন চৌকিদার, মাহবুব আহসান ও শ্যামলী রাণী দাস প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাজাহান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী মানুষকে নিজের সন্তানের মতো মনে করেন। তাই তাদের কিভাবে লালন-পালন করা যায়, তারা যে আদৌ কোন করুণার পাত্র নন, এসব মাথায় রেখেই বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এসময় প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির বর্ণনা দিয়ে শাজাহান খান বলেন, সরকারি চাকরি বিসিএস-এ ১% কোটা সংরক্ষণের কার্যক্রম কাগজে কলমে রুপ লাভ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের শাসনামল ২০১২ সালে। সরকারী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর চাকরিতে এতিম ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ১০% কোটা সংরক্ষণের বিষয়ে সরকার সচেতন রয়েছে এবং প্রতিবন্ধী কোটা যেন পূরণ করা হয় সে বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘সরকার মাসিক ৭০০ টাকা হারে ৮ লাখ ২৫ জন প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া ৫’শ থেকে ১২’শ টাকা হারে প্রতি মাসে ৮০ হাজার প্রতিবন্ধীর জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছে।’

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিআইডব্লিউটিসি স্টিমারে সিট রিজার্ভ রয়েছে জানিয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি লঞ্চে যেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাড়া প্রদান সাপেক্ষে একটি কেবিন বরাদ্দ দেয়া হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মালিক সমিতির প্রতি নির্দেশনার ব্যবস্তা করা হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষ সমাজের জন্য কোন অভিশাপ, অচ্ছুত বা করুণার পাত্র নয় এবং তাদের জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়- এই বিষয়টি লেখনির মাধ্যমে গণমাধ্যমে তুলে ধরে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরী করতে হবে। সরকারী বা বেসরকারী উদ্যোগে প্রতিবন্ধী আশ্রম তৈরী করা যায় কিনা তা ভেবে দেখতে হবে। একই সঙ্গে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, বেসরকারি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রতিষ্ঠান ও প্রতিবন্ধিতা) সুশান্ত কুমার প্রামাণিক বলেন, সরকার প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এক সময় প্রতিবন্ধীদের বাইরের কোন অনুষ্ঠান বা কাজে আনা হতো না, এখন সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে এই দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন হচ্ছে। এখন তারা সমাজের মূল ¯্রােতের মধ্যে আসার চেষ্টা করছেন। প্রতিবন্ধীদের মেধা ও দক্ষতা রয়েছে, তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করে এগিয়ে নিতে হবে।

ডিইউজে সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিশেষ করে প্রধান মন্ত্রীর কন্যা বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি সায়মা ওয়াজেদ হোসেন প্রতিবন্ধী তথা অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তাঁর এই কাজ এখন দেশে সামজিক আন্দোলনে রুপ লাভ করেছে। সায়মা অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের কল্যাণে নিরবচ্ছিন্ন ও উদ্ভাবনীমূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড’- এ ভূষিত হয়েছেন।

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারি সচিব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো: স্বপন চৌকিদার বলেন, ৩৩তম বিসিএস থেকে শুরু করে এপর্যন্ত যেসব বিসিএস পরীক্ষা হয়েছে, তাতে মোট ৩০ প্রতিবন্ধী বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারী চাকরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রতিবন্ধী বান্ধব উল্লেখ করে তিনি তাঁর প্রতিবন্ধকতাকে উত্তরণের সাফল্য বর্ণনা করেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় হতে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে অণ্যান্য শিক্ষার্থীর মতো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরাও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারছেন না। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর চাকরিতে এতিম ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ১০% কোটা সংরক্ষণের ঘোষণা থাকলেও তার যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বেসরকারি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ একেবারেই সীমিত। শুধু মাত্র কিছু সংখ্যক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এলক্ষে ভূমিকা পালন করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এসব বিষয়ে গণমাধ্যমে আরও বেশি বেশি লেখনির আহ্বান জানানো হয় মতবিনিময় সভায়।