Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:১৩ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী প্রাক্তন বেনজির ভুট্টো
বেনজির ভুট্টো

বেনজির ভুট্টো কেন গোপনে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন?

বৃহস্পতিবার সরকারি একটি হাসপাতালে নিজের প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডান। এ রকম নজির বিশ্বের আরও একটা আছে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন আর এক প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন অবস্থায় সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন বেনজির ভুট্টো। খবর: দ্য গার্ডিয়ানের।

তবে মাস ছয়েক আগে জাসিন্ডা জানিয়ে দেন যে তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তার দায়িত্বও হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বেনজির পুরো বিষয়টাই গোপন রেখেছিলেন। মন্ত্রিপরিষদের কোনো সদস্যই নাকি জানতেন না যে প্রধানমন্ত্রী সন্তানের জন্ম দিতে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সন্তান জন্মের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই টুইট করেন বেনজিরের সেই সন্তান বখতাওয়ার ভুট্টো জারদারি। তিনি লিখেছেন, বেনজির ভুট্টো দেখিয়েছিলেন যে আপনি একই সঙ্গে মা হতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীও থাকতে পারেন।

আরও কিছু বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেনজির ভুট্টোর নাম জড়িয়ে যাচ্ছে। ২১ জুন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন জাসিন্ডা। আর এটাই বেনজিরের জন্মদিন। জাসিন্ডা মা হয়েছেন ৩৭ বছর বয়সে। বেনজিরও ৩৭-এই জন্ম দিয়েছিলেন এই সন্তানের।

ভারতীয় একটি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপেই বেনজির তার অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। বখতাওয়ারের জন্মের সময় পাক সেনাসমর্থিত একটি রাজনৈতিক জোট সরকারকে ঘিরে ধরেছিল। এমনকি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে বেনজির ভুট্টোকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সে সময় আইএসআই তার দল থেকে অর্থের বিনিময়ে এমপিদের ভাগিয়ে নেয়ার চেষ্টাও করেছিল। তাই সে রকম একটা সময়ে দাঁড়িয়ে সন্তানসম্ভবা হওয়ার বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করেননি এবং মাতৃত্বকালীন কোনো ছুটিও নেননি বেনজির ভুট্টো। তার ব্যক্তিগত গাইনোকলজিস্ট তার অপারেশন করেছিল এবং সন্তান জন্মের পর ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তিনি দ্রুত কাজে যোগ দিয়েছিলেন।

পরে বেনজির ভুট্টো বলেছিলেন, পরের দিন আমি কাজে ফিরেছিলাম। সরকারি কাগজপত্র পড়েছিলাম এবং সরকারি ফাইলে স্বাক্ষরও করেছিলাম।

তখন বিশ্বের ইতিহাসে তিনিই ছিলেন একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন।

বেনজির ভুট্টোর আরও দুই সন্তানের জন্মও একইভাবে গোপনেই হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে জেনারেল জিয়া সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং সে বছর নভেম্বর মাসে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। বেনজির ভুট্টো তখন সন্তানসম্ভবা ছিলেন। তার গর্ভে তখন জন্ম নেন বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।

শোনা যায়, গোয়েন্দারা রিপোর্ট দিয়েছিল যে নভেম্বর মাসে বেনজির ভুট্টো সন্তানের জন্ম দেবেন। ফলে, তিনি ভালোমতো নির্বাচনী প্রচার করতে পারবেন না। তার ওপর ভিত্তি করেই জেনারেল জিয়া নভেম্বর মাসের শেষ দিকে নির্বাচন ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু বিলাওয়ালের জন্মের খবর আসে সেপ্টেম্বর মাসেই। বলা হয়, বেনজির ভুট্টো ইচ্ছাকৃতভাবে সন্তানের জন্মদানের সময় সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রচার করেছিলেন।