ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:৩৯ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বেতন বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশংকা

আগামী জুলাই থেকে এক লাফে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সরকারী-আধা সরকারি এবং স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্তত ১৩ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারি এর সুফল পাবেন।

বেতন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তে সরকারি কর্মচারিরা খুশি হলেও দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এমন আশংকা করছেন অর্থনীতিবীদরা।কারন এমনিতে মূল্যস্ফীতি নিয়্ন্ত্রণ করতে পারছে না। আর এক লাফে একশো ভাগ বেতন বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতিতে এটা নিশ্চিত।
এব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের একটা প্রত্যক্ষ ফল হবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া। তিনি বলেন, “২০১০-১১ সালে দেশে মূদ্রাস্ফীতি ছিল ১১ শতাংশ। এরপর কমতে কমতে সেটা সাত শতাংশ নেমেছে। চলতি অর্থবছরের মূদ্রাস্ফীতির হার এখনো জানা যায়নি।
এম এম আকাশ বলেন, মূদ্রাস্ফীতির অবস্থা কি দাঁড়াবে সেটা নির্ভর করবে সরকার এই বেতন বৃদ্ধির অর্থটা কোত্থেকে জোগান দেয় তার ওপর।
সরকার যদি ব্যাংক ঋণ নিয়ে বা নোট ছাপিয়ে এই বাড়তি বেতন জোগান দেয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই মূদ্রাস্ফীতির ওপর এর প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন বেসরকারি খাতের ওপরও বেতন বৃদ্ধির জন্য চাপ বাড়বে। সেটা যদি হয়, তখন মূদ্রাস্ফীতির হার আবারও দুই অংকের ঘরে পৌঁছে যেতে পারে।
এমনিতে সরকারকে প্রতি বছর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাবাদ প্রতি বছর ব্যয় করতে হয় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ণ হলে এর পরিমাণ ৬১ হাজার কোটি টাকায় দাড়াবে। যা বাজেটের প্রায় ৩৫ শতাংশ।
অর্থনীতিবীদরা মনে করেন বিপুল পরিমাণ ব্যয় নির্বাহ করতে সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপর নিভর হবে। অন্যথায় রাজস্ব আহরন আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। তবে সরকার যাই করুক মূল্যস্ফীতি যে বাড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই।