ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৫৪ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বেচারা নাজিমুদ্দিন সামাদ কেন উচিৎ কথাটা কইতে গেলি ভাই?

ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে অনলাইনে লেখালেখি করতেন এমন এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত নাজিমুদ্দিন সামাদ সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।

nazim1

ফেসবুক থেকে নেয়া ছবি

সূত্রাপুর থানা গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, রাত নয়টার দিকে ঢাকার পুরনো অংশ সূত্রাপুরের একরামপুর ট্রাফিক মোড়ে কয়েকজন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত সামাদের ওপর প্রথমে চাপাতি দিয়ে হামলা চালায়।

পরে তাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, আহত অবস্থায় বেশ কিছুক্ষণ রাস্তায় পড়ে থাকার পর পথচারীরা সামাদকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দেশে ২০১৩ সাল থেকে মোট ৫ জন ব্লগারকে তাদের লেখালেখির কারণে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত নাজিমউদ্দিন সামাদ ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির সান্ধ্য-কালীন বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

তার বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে।

সামাদ ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে অনলাইনে লেখালেখি করতেন বলে তার ফেসবুক পাতা থেকে জানা যাচ্ছে।

এছাড়া গণজাগরণ মঞ্চ সূত্রে জানাগেছে নিহত সামাদ সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন।

ফেসবুক পাতায় তিনি নিজেকে সিলেট জেলা বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নাজিমের ফেইসবুক পাতায় লেখায় জঙ্গি উগ্রবাদীদের সমালোচনা দেখা যায়। সাম্প্রতিক সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েও লিখেছেন তিনি। সমর্থক আওয়ামী লীগেরও সমালোচনা করতেও ছাড়েননি নাজিমুদ্দিন সামাদ। নিহত নাজিমুদ্দিনের ফেসবুক পাতায় তার বন্ধুরা শোক প্রকাশ করে নানা ধরণের কথা লিখছেন এবং নাজিমের লেখা বিগত দিনের বিভিন্ন মন্তব্য শেয়ার করছেন নাজিমেরই পাতায়।

বন্ধু রিংকু দে সুব্রতের প্রায় ১ ঘণ্টা আগে লেখা একটি মন্তব্য নিম্নে তুলে ধরা হলঃ

যে দেশে যুক্তির প্রতিপক্ষ বিশ্বাস
কলমের প্রতিদন্ধী চাপাতি!
সেই দেশে তো রাজীব, অভিজিৎ, ওয়াশিকুর, অনন্ত, নীলয়, নাজিমুদ্দিন সামাদ ভাইদের লাশের সারি তো দীর্ঘ হবে!

হয় স্বপ্ন দেখা মত প্রকাশ করা নিষিদ্ধ করো
নয় হে নষ্ট রাষ্ট্র… আমাদের হত্যা করো, এক এক করে নয় সবাইকে একসাথে

এখন আর বলবো না
হে আলোর পথের যাত্রী
এই যে রাত্রি এখানে থেমো না! বলবো থেমে যাও সব কিছু নষ্টদেরদের দখলে যাক তাতে তো অন্তত প্রাণটা বাঁচে।

 

নাজিমের বন্ধু মন চাষা ৩ ঘণ্টা আগে ২২ জানুয়ারির নাজিমুদ্দিনের লেখা নিম্নোক্ত বক্তব্য শেয়ার করে বলেছেন, কেন উচিৎ কথাটা কইতে গেলি ভাই?

বেচারা নাজিমুদ্দিন সামাদ কেন উচিৎ কথাটা কইতে গেলি ভাই?

মনন্ চাষা's photo.