Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:৫৩ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

বৃক্ষরোপণ করে সবুজায়নের মহৎ উদ্যোগে অংশগ্রহণ করার জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করে সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণ অভিযানে সক্রিয় অংশ নেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। বৃক্ষ কেবল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতেও বিশাল ভূমিকা পালন করে।
বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উপলক্ষে আজ শুক্রবার এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি সারাদেশে আগামীকাল শনিবার থেকে তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০১৫ শুরুর উদ্যোগ গ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, বসতবাড়ি নির্মাণ, শিল্পায়ন, নগরায়নসহ অন্যান্য স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণের ফলে একদিকে যেমন কৃষিজমির পরিমাণ কমছে, তেমনি বনভূমির পরিমাণও কাক্সিক্ষত মাত্রা অর্জন করতে পারছে না।
এ পরিস্থিতিতে জগৎ ও জীবের সার্বিক কল্যাণে কৃষিজমি রক্ষার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ সরকার বৃক্ষরোপণকে অগ্রাধিকার দিয়ে উপকূলীয় এলাকায় বনায়নসহ স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বাগান সৃজনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং জনকল্যাণমুখী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও আমাদের রয়েছে পাহাড়, উপকূলসহ সমতল ভূমি, যেখানে অধিক পরিমাণে বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।
এ পরিপ্রেক্ষিতে এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০১৫ প্রতিপাদ্য “পাহাড়, সমতল, উপকূলে, গাছ লাগাই সবাই মিলে” যথার্থ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
রাষ্ট্রপতি জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাড়ির আঙিনা ও চারপাশ, পতিত ও প্রান্তিক ভূমি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জলাশয়, খাল ও রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ করে সবুজায়নের মহৎ উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, তার সরকার জলবায়ুর পরিবর্তন রোধ, পরিবেশের উন্নয়ন এবং সম্পদ সৃজনে বৃক্ষের অবদান অনুধাবন করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
তিনি আরো বলেন, এ লক্ষ্যে সারাদেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে আজ বলেন, মানবসৃষ্ট কর্মকান্ডের বিরূপ প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবর্তন ঘটছে জলবায়ুর। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের ফলে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করে বৃক্ষই পারে ধরণিকে বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তুলতে। বৃক্ষের সবুজ বেষ্টনী ঝড়-ঝঞ্ঝা ও জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা হ্রাস করে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করে। তাই বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সমৃদ্ধ সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা একান্তভাবে প্রয়োজন।
জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার এবারের প্রতিপাদ্য “পাহাড়, সমতল, উপকূলে, গাছ লাগাই সবাই মিলে” অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষ দূষণমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির চালিকাশক্তি। আমরা বাঁচার জন্য অক্সিজেন পাই বৃক্ষ হতে। গাছ বায়ুম-লের কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং নিজ দেহে জমা রেখে পৃথিবীর কার্বনচক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধে গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরো বলেন, বস্তুত গাছ আমাদের জীবন ও জীবিকার সাথে সম্পৃক্ত। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশের উন্নয়ন ও দারিদ্র্যবিমোচনে অনাদিকাল থেকে বৃক্ষ অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
এবছর যারা “বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০১৪”, “বঙ্গবন্ধু এওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন ২০১৫” এবং যে সকল উপকারভোগী সামাজিক বনায়নে লভ্যাংশ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তাদের সকলকে অভিনন্দন জানান।
তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় তাদের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।