Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:১৬ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

বিয়ের আগে জরুরী স্বাস্থ্য পরীক্ষা

বিয়ের প্রস্তুতি মানেই মেয়ের গয়না, শাড়ি, আসবাব কেনাকাটা কিংবা ছেলের আংটি, ঘড়ি, বিয়ের আয়োজন সেরে ফেলা নয়। তার আগে একান্ত জরুরী হল পাত্রপাত্রীর শারীরিক ও মানসিক চেকআপ। বিয়ের আগে পাত্রপাত্রীর অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া উচিত শারীরিক সুস্থতার দিকগুলি। সেই ক্ষেত্রে প্রথমেই করিয়ে নেয়া উচিত কিছু হেলথ চেকআপ। এ ছাড়া কিছু বিশেষ টেস্টের মাধ্যমে দেখে নেয়া উচিত কারও কোন সংক্রামক ব্যাধি, জেনেটিক ডিজঅর্ডার, কোন রকম যৌন সমস্যা রয়েছে কিনা। এর জন্য কোন জেনারেল ফিজিশিয়ান , গাইনোকলজিস্ট, সেক্সোলজিস্টের কাছে গিয়ে কিছু টেস্ট করে জেনে নেয়া যেতে পারে তারা শারীরিকভাবে কতখানি সুস্থ। বিয়ের জন্য কতখানি শারীরিক ভাবে প্রস্তুত। সে ক্ষেত্রে কোন শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে বিয়ের আগে তার চিকিৎসা করিয়ে নেয়া ভালো।

স্পেশাল চেকআপ-এর ক্ষেত্রে

১। থ্যালাসেমিয়া জাতীয় হিমোগ্লোবিনোপ্যাথি টেস্ট করে অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত, কেউ কোন থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা। বাহক হলে অনাগত শিশু খতিগ্রস্থ হতে পারেন। এটি এমন ধরনের এক রক্তের অসুখ যাতে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায়। ফলে রোগীকে প্রতি ৩-৮ সপ্তাহ পর পর ব্লাড ট্র্যান্সফিউশন করতে হতে পারে। এই ব্লাড ট্র্যান্সফিউশনের ফলে অনেক সময় রক্তে আয়রণ জমে যেতে পারে ও যার থেকে হার্ট, লিভার, প্যানক্রিয়াসের ক্ষতি হতে পারে। ফলে বিশেষ থেরাপির সাহায্যে নিয়মিত শরীর থেকে আয়রণ পরিষ্কার করতে হয়। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই যদি থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন তা হলে বংশানুক্রমে তা বাচ্চার মধ্যেও চলে আসতে পারে। তাই এই টেস্ট আবশ্যক।

২। অত্যন্ত সংক্রামক টক্সোপ্লাজমা, রুবেলা, সাইটোমেগালো ভাইরাস, হারপিস সিমপ্লেক্স এইসব অসুখ একজনের হলে তা অন্য আরেক জনের শরীরে সংক্রামিত হতে পারে। তাই বিয়ের আগে টক্সোপ্লাজমা, রুবেলা, সাইটোমেগালো ভাইরাস, হারপিস সিমপ্লেক্স এর পরীক্ষা করে তা দেখে নেওয়া উচিত।

জেনারেল হেলথ চেকআপ-এর ক্ষেত্রে

১। ব্লাড কাউন্ট, হিমোগ্লোবিন টেস্ট করে দেখে নেওয়া উচিত অ্যানিমিয়া রয়েছে কিনা। অ্যানিমিয়া থাকলে শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়, সংক্রামিত হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়। বাচ্চা হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে টেস্টে অ্যানিমিয়া ধরা পড়লে, তা চিকিৎসা করে নেওয়া প্রয়োজন।

২। ব্লাড সুগার টেস্ট করে দেখে নেয়া উচিত ডায়াবেটিস রয়েছে কিনা। ডায়াবেটিসে অনেক ক্ষেত্রে ইনসুলিন নিতে হয়। সেই ক্ষেত্রে বাচ্চা হওয়ার সময় মায়ের বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন, তার নিয়ন্ত্রিত লাইফস্টাইলের প্রয়োজন। ফলে বিয়ের আগে সুগার টেস্ট করে দেখে নেওয়া উচিত ডায়াবেটিস রয়েছে কিনা। থাকলে তার চিকিৎসা করাতে হবে।

৩। লিভার টেস্ট করে দেখে নেওয়া উচিত লিভার ফাংশন ঠিক রয়েছে কিনা। হেপাটাইটিস এ, বি, সি ঠিক রয়েছে কিনা। হেপাটাইটিস এ সেরে গেলেও, পাত্রী যদি হেপাটাইটিস বি, কিংবা সি-এর অধিকারী হন তাহলে তার থেকে তা সংক্রামিত হয়ে স্বামী ও বাচ্চার শরীরে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিয়ের আগেই দুজনেরই হেপাটাইটিস-এ ও বি ভ্যাকসিন নিয়ে রাখা উচিত।

৪। চেস্ট এক্স-রে করে দেখে নেওয়া উচিত কারও কোন রকম টিউবার কোলিসিস রয়েছে কিনা। থাকলে তার চিকিৎসা করানো উচিত।

৫। কোলেস্টেরল , লিপিড প্রোফাইল, কিছু আনুসাঙ্গিক পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া উচিত হার্টের অবস্থা কেমন রয়েছে। কোলেস্টেরল বেশি থাকলে ওষুধের সাথে জীবনযাত্রা সংযত রাখাও প্রয়োজন। ফলে আগাম পরীক্ষা করে যদি দেখা যায় কোলেস্টেরল বেশি তার চিকিৎসা করা উচিত।

৬। ইউরিয়া টেস্ট করে দেখা উচিত কিডনির ফাংশন কেমন রয়েছে। ইউরিয়া বেশি থাকলে তার থেকে বাচ্চার সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে আগে থেকেই চেকআপ করিয়ে নেওয়া ভালো। সমস্যা থাকলে চিকিৎসা করে নেওয়া প্রয়োজন।

৭। থাইরয়েড পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। থাইরয়েড কম কিংবা বেশি রয়েছে কিনা। কারণ থাইরয়েড সমস্যা থেকে পরবর্তীতে বাচ্চা হওয়ার সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আগেই চেকআপ করিয়ে নিন সমস্যা থাকলে চিকিৎসা করিয়ে ফেলুন।

৮। রুটিন চেকাআপ হিসেবে দাঁত এবং চোখের পাওয়ার, রেটিনা একবার পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

গাইনোকলজিকাল চেকআপ-এর ক্ষেত্রে

১। গাইনোকলজিস্টের কাছে গিয়ে পাত্রীর একবার পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া উচিত ইউটেরাস, ওভারিতে কোনও রকম সমস্যা আছে কিনা, জেনিটাল ট্র্যাকে কোন সমস্যা আছে কিনা। থাকলে তার চিকিৎসা করিয়ে নেওয়া উচিত।

২। ব্রেস্ট পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া উচিত ব্রেস্টে কোন লাম্প আছে কিনা। লাম্প ধরা পড়লে তার পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

সেক্সুয়াল হেলথ চেকআপ- এর ক্ষেত্রে

১। পাত্র যদি মনে করে থাকেন তাঁর পুরুষত্বহীনতা, বীর্যপাতজনিত সমস্যা বা পুরুষাঙ্গে কোন সমস্যা রয়েছে, তা হলে আগে থেকেই সেক্সোলজিস্টের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন।

মানসিক স্বাস্থ্য

বিয়ের আগে নিজেকে ঠিকমত চেনা, জানার জন্য, বিয়ের জন্য তাঁরা কতখানি প্রস্তুত জেনে নেওয়ার জন্য পাত্র-পাত্রীর উচিত আগে থেকেই কোনও কাউন্সেলরের সাথে কাউন্সেলিং করে জেনে নেওয়া, বিয়ের পর তিনি নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে শারীরিক, মানসিকভাবে মানিয়ে চলার ক্ষেত্রে কতখানি প্রস্তুত রয়েছেন।

তথ্য সূত্রঃ সানন্দা  (ডাঃ সুব্রত চট্টোপাধ্যায়)