Press "Enter" to skip to content

বিশ্লেষণ: সহিংসতার সংস্কৃতি থেকেই ‘ফাহাদ হত্যা’

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে। সরকারের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়ার পর তাকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পলাতক আরও ছয় শিক্ষার্থীকে খোঁজা হচ্ছে। দেশের একটি অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়ে এভাবে তিলে তিলে নির্যাতন করে ঘটনায় সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

এতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহিংসতার সংস্কৃতিই ফের সামনে চলে এসেছে। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ ব্যাপক-বিস্তৃত।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে রোববার গভীর রাতে তার মরদেহ পাওয়া গেছে।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নির্যাতনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। কেবল হলে থাকার সুযোগ পেতে দলীয় সভা-সমাবেশে নতুন শিক্ষার্থীদের যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।

ভিন্নমত কিংবা নেতাদের নির্দেশ অমান্য করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর শিক্ষার্থীদের নির্যাতন ও উত্ত্যক্ত করা হয়।

২০১৮ সালে সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে স্কুলশিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামলে হেলমেটধারী অজ্ঞাত হামলাকারীরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ওই হামলার জন্য ছাত্রলীগকেই দায়ী করা হচ্ছে।

সেই একই বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এক শিক্ষার্থীকে হাতুড়ি দিয়ে নৃশংসভাবে পেটানোর ছবি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল তখন।

দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংগঠনগুলোকে পেশিশক্তি ব্যবহারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে রাজনৈতিক দলগুলো। যদিও দলগুলোর ছাত্র সংগঠন থাকার অনুমতি নেই, কিন্তু তাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা যায় না।

আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এ ধরনের রাজনীতিকে সমর্থন দেয়া উচিত কিনা, তা পুনর্বিবেচনা করে দেখা দরকার। কেবল যেসব বাবা-মা একদিন তাদের সন্তানকে বুয়েটে পাঠানোর স্বপ্ন দেখছেন, তারাই না, বাংলাদেশের বহুলোকের দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম।

সোমবার সড়ক অবরোধ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। মঙ্গল ও বুধবারেও সেই বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের ফাঁসির দাবি করা হচ্ছে।

বুয়েট ক্যাম্পাসে সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরাও বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতির সভাপতি একেএম মাসুদ বলেন, আবাসিক হলে নির্যাতনে একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ অগ্রণযোগ্য। কাজেই এ হত্যাকাণ্ড কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ ব্যর্থতাকেই নিশ্চিত করছে।

সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করার পর পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, আবরার ফাহাদের হল থেকে ৯ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী।

পিটুনিতেই আবরার নিহত হয়েছেন বলে ঢাকার উপপুলিশ কমিশনার মুন্তাসিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের যেসব উদ্ধৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে, একটি ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে জেরা ও মারধর করা হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করার দায়ে ডেকে নিয়ে নৃশংস নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে তাকে।

এক বিবৃতিতে ছাত্রলীগ জানিয়েছে, সাংগঠনিক তদন্তের পর তাদের ১১ নেতাকর্মীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। – বিশ্লেষণ বিবিসি’র

শেয়ার অপশন: