মিস ওয়ার্ল্ড হতে পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত বাংলাদেশী যুবক!

ট্রান্স জেন্ডরের মাধ্যমে ছেলে থেকে মেয়ে হলেন কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি তরুন আদেশ। বর্তমান নাম এমেলিয়া ম্যালটেপে। তার বয়স ২৩ বছর। বর্তমানে কানাডার সুপার মডেল। জন্মগত ভাবে তিনি পুরুষ। লিঙ্গান্তর ঘটিয়ে নারী হয়েছেন। যদিও এখনো সর্বাংশে নারী হতে আরো সময় লাগবে। তবু স্বপ্ন দেখছেন মিস ওয়ার্ল্ড হওয়ার। তিনি বসবাস করেন কানাডার টরেন্টোতে।
পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরের জন্য ইতিমধ্যে আট হাজার পাউন্ড খরচ করেছেন তিনি। এর মধ্যে স্তন স্থাপনে ৬ হাজার ও ত্বকের চুল দূরীকরণে দুই হাজার পাউন্ড খরচ হয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ লিঙ্গ স্থিরীকরণ অস্ত্রোপচার।
পুরো বিষয়টিতে তাকে সহযোগিতা করছেন তার ব্যক্তিগত ট্রেইনার ও বয়ফ্রেন্ড চার্লস দাবাক। দুজন এখন একসাথেই থাকছেন। বুধবার এমেলিয়াকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মেইল অনলাইন।
world22মেইল অনলাইনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমেলিয়া বলেন, বড় হতে হতে আমি অনুভব করলাম, আমার শারিরীক গঠন ঠিক নয়। আর লিঙ্গ পরিবর্তনের চিন্তা কখনো ছিল না। তবে এখন ভাবি, যদি আমি স্রষ্টা এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখি, আমার মনে থাকা যেকোন কিছু আমি অর্জন করতে পারবো।
এর দুই মাস পর থেকে স্তন স্থাপনের কাজ শুরু করেন। তারপরই আট হাজার পাউন্ড ব্যয় করেন স্তন এবং ত্বকের চুল দূরীকরণে। বর্তমানে মডেলিং নিয়েই ব্যস্ততা তার।
মেডিসিনের মাধ্যমে জন্ম লিঙ্গ পরিবর্তন করার বিষয়ে প্রথম জানতে পারেন। প্রথমে শরীরের বয়সের জন্য হরমোন কোর্স করেন তিনি। চলতি বছর বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন এমেলিয়া। তার স্বপ্ন মিস ওয়ার্ল্ড হওয়ার। তিনি বলেন, মিস ওয়ার্ল্ড হওয়াটা এখন আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। আর এ কাজে তার অনুপ্রেরণা কানাডার লিঙ্গান্তর ঘটানো মডেল জেনা তালাকোভা।
গত বছর কানাডায় মিস ইউনিভার্সে অংশ নেয়ার জন্য একটি আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন জেনা। এমেলিয়াকে নিয়ে তার বয়ফ্রেন্ড চার্লস বলেন, আমি প্রথমে জানতাম না এমেলিয়ার শারিরীক গঠনের বিষয়টি ধরা পড়ে একটি অপারেশনের মাধ্যমে। প্রথমে তার পরিবার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে না নিলেও পরবর্তীতে মেয়েকে কোন বাঁধা দেননি।
দেশের বাইরেও পড়তে গেছেন নিজের ইচ্ছাতেই। বর্তমান অবস্থা পরিবার কীভাবে নেবে তার জবাব দিতে গিয়ে এামেলিয়া বলেন, আমাকে স্তনসহ দেখলে প্রথমে তাদের খুব কষ্ট হবে। তবে আমি যেমনই হই না কেন, পরিবার আমাকে ভালোবাসে। নিজের সম্পর্কে তার মন্তব্য, আমি মনে করি আমি সুন্দর একজন নারী। আর মানুষও আমাকে এ জন্য মর্যাদা দেবে।
খবরে প্রকাশ, এমেলিয়ার জন্ম বাংলাদেশের একটি মুসলিম পরিবারে। পড়াশোনার জন্য ২০০৯ সালে কানাডায় যান। এখন সেখানে বিজনেস একাউন্টিং বিষয়ে পড়ছেন। পূর্ণাঙ্গ নারী হওয়ার পথে থাকা এমেলিয়া বর্তমানে মডেলিং করছেন। গত বছর টরেন্টোতে আবেদনময়ী পোশাকের একটি ফটোশ্যুট করেন এমেলিয়া; যেটি স্থানীয় পত্রিকা দ্য টরেন্টো সান প্রকাশ করেছে।

Like & share করে অন্যকে দেখার সুযোগ দিন