ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:২৯ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বিশ্ব ব্যাংকের টাকা খেয়েই এদেশের পাটকল বন্ধ করে বিএনপি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে ঘোষণা করে বলেছেন, পাটকে এখন থেকে কৃষিপণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাট উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানীর ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য হিসেবে প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধাগুলো এখানে প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,বিশ্ব ব্যাংকের টাকা খেয়েই বিএনপি এদেশের পাটকলসহ শিল্প কারখানা গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বন্ধ করে দিতে থাকে।’
প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব তন্তু হিসেবে পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘পাট খাতের মাধ্যমে এখনও বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।’
শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় এ সময় মজুরি কমিশন গঠনেরও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছি। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সংগতি রক্ষার্থে সরকার শ্রমিকদেরও মজুরি বৃদ্ধির জন্য শিগগিরই মজুরি কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ এর সফল বাস্তবায়নে সম্মাননা প্রদান এবং তিন দিনব্যপী বহুমুখী পাটজাত পণ্য মেলা-২০১৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মুহম্মদ ইমাজউদ্দিন প্রামাণিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শহিদ উল্লা খন্দকার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর এবং অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য, আন্তর্জাতিক সহযোগী সংগঠনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ এর সফল বাস্তবায়নে ১৩টি ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থাসহ ৪১ জনকে এদিন পুরস্কৃত করা হয়।
নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ‘ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট’ বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন- নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, আইজিপি শহিদুল হক, র‌্যাবের মহপরিচালকের পক্ষে অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান, এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমেদ, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) মহাপরিচালক ড. মো. কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) হুমায়ুন খালেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে পাটের উপর থিম সঙ্গ এবং তথ্যচিত্র পরিবেশিত হয়।
পাট আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পাট রফতানির অর্থ পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হতো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ স্বাধীন হবার আগে পাকিস্তানের মোট রপ্তানী আয়ের দুই তৃতীয়াংশ আসতো পাট থেকে। ছয় দফা ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক বৈষম্যের ক্ষেত্রে পাটের এ বিষয়টি তুলে ধরেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পোস্টারে পাট গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। কারো কাছে হাত পেতে নয়, কারো কাছে ভিক্ষা করে নয়, বিশ্ব সভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। আমাদের যে সম্পদ আছে, তা কাজে লাগিয়ে আমাদের চলতে হবে।
আমাদের সোনালী আঁশ দেশের সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে বলেও এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
pm91

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দেশের পাটকল বন্ধ করে দিয়েছে বিএনপি।
তিনি বলেন, ‘যেখানে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থে ভারতে নতুন নতুন পাট কল গড়ে তোলা হচ্ছিল তখন সেই বিশ্ব ব্যাংকের টাকা খেয়েই বিএনপি এদেশের পাটকলসহ শিল্প কারখানা গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বন্ধ করে দিতে থাকে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে পার্লামেন্টে পাটকল বন্ধের কথা তোলা হলে আওয়ামী লীগ এর তীব্র বিরোধিতা করে। ঠিক সেই সময়েই ভারত পাটশিল্পকে গুরত্ব দিয়ে পাটকল চালু করতে থাকে। কিন্তু সোনালী আঁশের দেশ হলেও আমাদের দেশে বন্ধ হতে থাকে পাটকলগুলো।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০২ সালের ৩০ জুন এশিয়ার সর্ববৃহৎ পাটকল আদমজী মিল বন্ধ করে দেয় বিএনপি। এতে মিলের হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৪ সাল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরই) প্রতিষ্ঠা করেন। পাটজাত পণ্য উৎপাদন ও রফতানি সংস্থা ‘বিজেএমসি’ গঠন করা হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যার পর পাটখাতে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। পরের সরকারগুলোর কাছে চরম অবহেলিত হয় পাটশিল্প।
বস্ত্র ও পাট খাতের গত কয়েক বছরের উন্নতি ও সমৃদ্ধির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, পাটের এখন সেই অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে উন্নতমানের পাট উৎপাদন করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ ২০০৯ সালকে ‘আন্তর্জাতিক প্রাকৃতিক তন্তুবর্ষ’ ঘোষণা করে। আমাদের সরকার পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার ও চাহিদা বৃদ্ধির জন্য ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ প্রণয়ন করে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন জোরদার হওয়ায় পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে পাটের ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন বাস্তবায়নের জন্য দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনার ফলে আইনটির প্রায় শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়েছে। পাটের ব্যবহার বেড়েছে। উল্লিখিত সময়ে আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে বছরে পাটের ব্যাগের চাহিদা ১০ কোটি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পাটকলসমূহে কর্ম চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
তিনি বলেন, শুধু রপ্তানী নয়, আমাদের দেশের ভেতর যে বড়ো বাজার রয়েছে। সেটিকেই আমাদের ধরতে হবে। বন্ধ পাটকলসমূহ পুনরায় চালু করায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
pm93

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ বান্ধব পাটপণ্যকে বহুমুখী করার বিষয়টিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছি। জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের মাধ্যমে জেডিপিসি)এ লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বহুমুখী পাটপণ্যের উদ্যোক্তাগণ দৃষ্টিনন্দন পাটপণ্য উৎপাদন করছেন, যার অধিকাংশই বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। বহুমুখী পাটপণ্যকে দেশে জনপ্রিয় করতে নানা রকম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পাটের বহুমুখি ব্যবহার নিশ্চিত করায় পাট থেকে ১শ ধরনের পণ্য তৈরি হচ্ছে। পাটের চা স্বাস্থ্যকর, পাট শাক খেতে সুস্বাদু, পাটের শাড়ি, স্যান্ডেল, গাড়ির সান রুফ, কার্পেট, ব্যাগ প্রভৃতি এখন পাট থেকে তৈরি হচ্ছে।
‘জুট জিও টেক্সটাইল’ আমরা সফলভাবে উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি দেশে ও বিদেশে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় জুট জিও টেক্সটাইল আমাদের পাটের সম্ভাবনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাটের বহুমুখী ব্যবহার এবং পাটের উন্নত চাষাবাদের জন্য আমাদের গবেষকরা কাজ করছেন। আমাদের বিজ্ঞানী মরহুম ড. মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে পাটের জিন রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। ফলে পাটের উন্নত চাষাবাদের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। পাট আমাদের নিজস্ব পণ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে আমাদের সাফল্যে বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এ দেশের মানুষের সার্বিক উন্নয়নে সরকার বদ্ধ পরিকর। আমাদের সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসা ও শিল্পে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান আমাদের লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি সরকারি বেসরকারি পূর্ণ সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, শান্তিময়, উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। খবর বাসসের।