Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:০৪ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

এস কে সিনহা
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা,ফাইল ফটো

বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ছাত্র-শিক্ষক ভূমিকা দেখতে চান প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ছাত্র-শিক্ষক ভূমিকা রাখবে। একদিন ছাত্রবান্ধব শিক্ষকদের পদভারে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ভরে উঠবে।

শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

এ পুনর্মিলনীর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হোসাইন।

প্রধান বিচারপতি বলেছেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুণগত শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ বিনির্মাণে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন,দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রবান্ধব শিক্ষকের পদচারণা থাকবে। আমরা চাই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিজ্ঞান গবেষণায় আরো অধিকতর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ছাত্রবান্ধব শিক্ষকদের পদভারে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ভরে উঠবে এবং জাতির অগ্রগতিতে দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষায় তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে প্রযুক্তিভিত্তিক সুযোগ-সুবিধা অত্যাধুনিক ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থাকলেই হবে না। তা হতে হবে উচ্চগতি সম্পন্ন। ই-বুক, ই-টেক্সট বুক, ই-জার্নাল, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রবন্ধের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হতে হবে।

ভাষা শহীদদের কথা স্মরণ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, একথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, ভাষা আন্দোলনই আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে। বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়ায় এই ভূ-খণ্ডের মানুষ বিশ্বব্যাপী হয়েছে পরম সম্মানিত।

তিনি বলেন, মানব অভিজ্ঞতার এমন কোনো দিক নেই, যা দর্শন রাজ্যের বাইরে পড়ে। মানব সভ্যতা বিকাশে মানুষের সামগ্রিক উন্নতিতে দর্শনের দান অপরিসীম।

দর্শনের সঙ্গে আইনের সম্পর্কের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, দর্শনের জ্ঞান থাকলে মানুষ সহজাত প্রবৃত্তি থেকে আইন মানে ও আইন মান্যকারী হয়। দর্শন ও আইনের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। একটিকে বাদ দিয়ে অপরটি কল্পনা করা যায় না।

তিনি বলেন, আইনের ভিত্তি অনেকাংশে দর্শনের ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল। দর্শন সবসময় বাস্তবতার বিবেচনায় আইনের মতো শক্তিশালী নয়। তবে গণতন্ত্রের বিকাশে রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি দর্শনের ভূমিকা কোন দিক থেকেই কম নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।

বিভাগের চেয়ারম্যান ড. প্রদীপ রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, প্রবীণ অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মো. লুৎফর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

দিনব্যাপী এই মিলনমেলায় অংশ নিয়েছেন দর্শন বিভাগের প্রায় ১৩শ প্রাক্তন শিক্ষার্থী। অষ্টম এই পুনর্মিলনীর স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সৌহার্দ্য ও স্মৃতির বন্ধনে আবদ্ধ আমরা/এসো মিলি প্রাণের আনন্দে’।