Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:০৭ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২০শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস সঠিক হয় না, ৮ প্রকল্পের অনুমোদন একনেকে

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৩ হাজার ৫৮৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষ নতুন ৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থায়ন হবে ১ হাজার ৫৭১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আর সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৯৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ১ হাজার ৯১৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা পাওয়া যাবে।

আজ সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলনে কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পরে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

জিডিপি’র বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক অভিমতের বিষয়ে ব্রিফিংকালে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দেয় তা সঠিক হয় না।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক ‘সাউথ এশিয়ান স্প্রিং’ রিপোর্টে বলেছে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। পরবর্তীতে সাউথ এশিয়ান স্প্রিং বৈঠক ২০১৫-তে বলা হলো প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু আমাদের হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক আমাদের হিসাব মেনে নিয়েই পরবর্তীতে বলেছে যে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিলো ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্লোবাল প্রসপেক্টাস-২০১৫ প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছে যে, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এখন আবার বলছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হবে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে অগ্রগতি যথেষ্ট ভালো। শিল্প, কৃষি এবং সেবা খাতসহ যেগুলো জিডিপি’র বিষয়ে বিবেচনায় আসে প্রত্যেকটিতে বাংলাদেশের অবস্থান ইতিবাচক, কোথাও কোন নেতিবাচক কিছু নেই।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘বিশ্বব্যাংক যাই বলুক না কেনো, এ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের উপরেই হবে।’

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়েছে। দেশে সকল ফসলের উৎপাদন বেড়েছে। অন্যদিকে, আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হারও বেড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ৩ মাস পরে চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া গেলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। সবকিছুই ভালোমতো চলছে। শিগগির রেমিটেন্স ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে।’

বিএনপি’র সমালোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন উন্নয়নের কোনো স্বাক্ষর ছিলো না। তখন বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ নিশ্চিত ছিলো না। বিএনপির সময় এসবের প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল হয়েছিল।’

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে ১ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ ‘ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম-২য় পর্যায় (এনএটিপি-২)’। প্রায় ৩৪৫ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ ‘মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প। এ ছাড়া, ৬৬ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ ‘প্রাণি সম্পদ উৎপাদন উপকরণ ও প্রাণিজাত খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ গবেষণা স্থাপন’ প্রকল্প। মোট ৭৯৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষ পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের আওতায় ৭০ হাজার ওভারলোডেড বিতরণ ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন’ প্রকল্প। ৩০২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষ ‘জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন’ প্রকল্প’।

৮৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষ ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্প। ৪৭ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ ‘সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্প এবং ৫৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষ ‘গাইবান্ধা-ফুলছড়ি-ভরতখালী-সাঘাটা সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (জেড-৫৫৫২)’ প্রকল্প।