ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:৩৭ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ক্ষেত্র বাড়াতে হবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে গবেষণায় সহায়তা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ক্ষেত্র বাড়ানোর গুরুত্বারোপ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, গবেষণা উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। কারণ গবেষণার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় নতুন জ্ঞানের যা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে অবদান রাখে। সময়ের চাহিদা বিবেচনায় রেখে সরকার দেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান শতাধিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে উচ্চশিক্ষার পরিধিও আজ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে উচ্চশিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে আমাদের অবিরাম তৎপরতা চালাতে হবে। গবেষণার ক্ষেত্র বাড়াতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আজ চট্ট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষনে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান,বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান ও চবির উপাচার্য ইফতেখারউদ্দিন চৌধুরী।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথাগত অনুষ্ঠান হলেও বাস্তব জীবনে এর গুরুত্ব অত্যধিক। সমাবর্তনের মাধ্যমে একদিকে যেমন নবীন গ্র্যাজুয়েটদের অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ও তার কার্যক্রমের সামগ্রিক মূল্যায়নের সুযোগ পায়। সমাবর্তন তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে এক একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ সমাবর্তনে নবীন গ্র্যাজুয়েট, গবেষক, তাদের গর্বিত অভিভাবক, সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
রাষ্টপতি বলেন,বাংলাদেশ রাষ্ট্রসত্তার উদ্ভবের ইতিহাসের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহান স্বাধীনতার ঘোষণা এই চট্টগ্রাম থেকেই সর্বপ্রথম প্রচারিত হয়েছিল মরহুম এম এ হান্নানের কণ্ঠে। একইভাবে তার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য হয়ে রয়েছে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র বা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ইতিহাস। আজও বাংলাদেশের আপামর জনতার সংগ্রামের আখ্যানের স্মারক হয়ে আছে ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দান। ১৯৭৫-এর আগস্ট মাসে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের শিকার হওয়ার পূর্বে বঙ্গবন্ধুর পদাপর্ণে লাখো জনতার সাক্ষী হয়েছিল এই লালদীঘি ময়দান। আমাদের স্বাধীনতার যুক্তি ও আবেগের জায়গায় তাই চট্টগ্রামের স্থান সবসময়েই বিশেষভাবে সংরক্ষিত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতা, চট্টগ্রাম অঞ্চল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সব আসলে এক সূত্রে গাঁথা। তাই আজ আপনাদের এই চতুর্থ সমাবর্তন উৎসবে এসে নিজেকে ধন্য মনে করছি। মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরী, এম. এ. হান্নান, এম. এ. আজিজ, এ. কে. খান, আবদুল্লাহ আল হারুন, এম. এ. মান্নান, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, আতাউর রহমান খান কায়সার প্রমুখের রাজনৈতিক-সাংগঠনিক তৎপরতা আজও মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শহর থেকে দূরে অবস্থিত হয়েও মুক্তিযুদ্ধে পালন করেছিল গৌরবময় ভূমিকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা, কর্মচারিÑশিক্ষার ব্রতে নিয়োজিত থেকেও সময়ের প্রয়োজনে যাঁর-যাঁর অবস্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে বেগবান করবার জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের তৎকালীন জি. এস. আবদুর রব শহীদ হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। শিক্ষক-ছাত্র-কর্মচারিদের রক্তের-ত্যাগের ইতিহাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ধারণ করে আছে গর্ব ভরে।
‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেলক্ষ্য পূরণে আমাদের তরুণ সমাজকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। তরুণ প্রজন্মই জাতির প্রাণশক্তি, সমাজ পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার’ এ কথা উল্লেখ তরে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের অমিত সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও জ্ঞানবিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে হবে। তাদের স্বপ্ন দেখাতে হবে। কারণ স্বপ্ন না থাকলে সাফল্য আসে না। বাংলাদেশ আজ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয়, স্যানিটেশন, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি প্রভৃতি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তবে এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সামাজিক শৃঙ্খলা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে হবে। বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় তা সম্মিলিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করতে সরকার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে-উল্লেখ করে তিনি বলেন,এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে থাকতে হবে নিরলস প্রচেষ্টা, আত্মসমালোচনা ও সহযোগিতা। থাকতে হবে কর্তব্য ও দায়িত্ববোধ। এ প্রসঙ্গে আমি জাতির পিতার ১৯৭৪ সালের ১৫ই ডিসেম্বর দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণ থেকে উল্লেখ করতে চাই। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের সকলকে আত্মসমালোচনা, আত্মসংযম এবং আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, আপনি আপনার কর্তব্য দেশের ও দেশের জনগণের প্রতি কতটা পালন করেছেন, সেটাই বড় কথা’। আমার বিশ্বাস ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে সবাই সচেষ্ট হবেন। দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে অবদান রাখবেন।