ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:৪৮ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৯শে এপ্রিল ২০১৮ ইং

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে ভিসি-মন্ত্রীর বাকযুদ্ব

শীর্ষ মিডিয়া ২৯ সেপ্টেম্বর ঃ  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, এই ভর্তি পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় ত্রুটি আছে বলে তিনি মনে করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক ভর্তি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ উল্লেখ করে বলেন, এ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা ঠিক হবে না।
ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি তুলে দিয়ে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পক্ষে মত দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে এটির বিপক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীর অনুত্তীর্ণ হওয়া, বিশেষ করে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির মানদণ্ডে মাত্র দুজন শিক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হওয়া নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষার ত্রুটির কথা বললেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
তিনি বলছেন, ভর্তি পরীক্ষায় এধরণের ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে এবং এটি নিয়ে তারা বিস্মিত।  মি. ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাছাই প্রক্রিয়া দিয়ে সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই হয় না।
”তাহলে এসএসসি-এইচএসসির কি মূল্য থাকলো? এসব ছেলেমেয়েরা হতাশ হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই এখানে কোথাও না কোথাও গলতি আছে,” তিনি বলেন।
গত ১৯শে সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ-ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ হাজারেরও বেশী পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯০%-এর বেশী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। আর মাত্র দু’জন ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সকল মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পেরেছিলেন।
এবিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলছেন, ভর্তি পরীক্ষা একটি বাছাই প্রক্রিয়া এবং ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার মান যাচাই করা ঠিক হবে না, একইভাবে এর ফলাফল দিয়েও ভর্তি পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা সঠিক নয়।
তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি ভর্তি প্রক্রিয়ায় ত্রুটি আছে বলে মনে করে, তবে কি ত্রুটি সেটি তাদেরকেই নির্দিষ্টভাবে বলতে হবে।
অধ্যাপক সিদ্দিক বলেন, ”পুরো প্রক্রিয়াটা এতটা স্বচ্ছ যে সকল শিক্ষার্থী তাদের পরীক্ষার নম্বর, ভুল-ক্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেখতে পারে। আমার মনে হয় না এই পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা সমীচীন হবে।”
এদিকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল এবং তারপর ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থতা নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না।
”আমি মনে করি, মাঝখানে এই পরীক্ষারই কোন প্রয়োজন নেই। সে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েই ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করলো। দুই পরীক্ষার রেজাল্ট দেখে আপনি যাকে যে বিষয়ের যোগ্য মনে করবেন তাকেই নেবেন।”
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের সাথে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের সমন্বয় করেই শিক্ষার্থী বাছাই করা হয় বলে জানান অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক। তার মতে, ভর্তি পরীক্ষা না নেয়া হলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।
”মধ্যম মানের সিজিপিএ পাওয়া ছেলে-মেয়েরাও কিন্তু সুযোগ পাচ্ছে। যদি যান্ত্রিকভাবে শুধু এসএসসি-এইচএসসির ফলাফলের উপর ভিত্তি করে আমরা ভর্তি করি, তবে বহু মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত অবস্থায় পরীক্ষা দিয়ে কম সিজিপিএ পায়, তাদের ভাগ্য একেবারে থামিয়ে দেয়া হবে।”
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসিত এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরাসরি এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
তবে আইন পরিবর্তন করে ভর্তি প্রক্রিয়া পরিবর্তনের কথা তারা এখনই ভাবছেন না বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী মি. ইসলাম।
এদিকে অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন করতে চাইলে, সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাকাডেমিক কাউন্সিলই সিদ্ধান্ত নেবে।সূত্র : বিবিসি ।
উল্লেখ,গতকাল  রোববার থেকে এ বাকযুদ্ব শুরু হয়েছে।