ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:৩৩ ঢাকা, বুধবার  ২৩শে মে ২০১৮ ইং

বিরোধী দুই নেতা কিছুদিনের মধ্যেই ভুল বিচারের শিকার হতে পারেন: অ্যামনেস্টি

বিরোধী দুই নেতা কিছুদিনের মধ্যেই ভুল বিচারের শিকার হতে পারেন, এ প্রসঙ্গে বলা হয় যুদ্ধাপরাধ বিচার ও আপিল প্রক্রিয়ায় মারাত্মক ত্রুটি হওয়ার পর বাংলাদেশের দুই বিরোধী নেতার ফাঁসি অত্যাসন্ন। এমন মন্তব্য করেছে মানবাধিকারবিষয়ক বৃটিশ সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এ নিয়ে সংস্থাটি নিজস্ব ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার দায়ে বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতের আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেয় ২০১৩ সালে। এ বিচার সুষ্ঠু বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এ বছর জুনে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আপিলে সাজা বহাল করা হয়। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাজা বহাল করা হয় জুলাইয়ে। ওদিকে সরকার আরও যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর দেখতে চায় দ্রুততার সঙ্গে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সুষ্ঠু বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের রিভিউ পিটিশনের শুনানি হওয়ার কথা ২রা নভেম্বর। যদি এতে তাদের বিরুদ্ধে রায় বহাল রাখা হয় তাহলে তাদের মৃত্যুদণ্ড উল্টানোর আর কোন আইনি পথ থাকবে না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষণা পরিচালক ডেভিড গ্রিফিথস বলেন, তাদের বিচার প্রক্রিয়া স্পষ্টত ত্রুটিপূর্ণ। আর শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড পাওয়ায় তারা কিছুদিনের মধ্যেই ভুল বিচারের শিকার হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যে অপরাধ ঘটানো হয়েছে তা ভয়াবহ। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড শুধু দীর্ঘ মেয়াদি সহিংসতা নিয়ে আসতে পারে। সুষ্ঠু বিচারের ঘাটতির ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাটা হবে আরও বেশি উদ্বেগজনক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিচারে মারাত্মক ত্রুটির বিষয় তুলে ধরেছেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবীরা। একবার ‘পিডব্লিউ-৬’ হিসেবে চিহ্নিত সাক্ষী যে বিবৃতি দিয়েছেন তা প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব হয় নি। ওই সাক্ষী বলেছিলেন, তার সঙ্গে যার সাক্ষ্য দেয়ার কথা ছিল বলা হয়েছে তিনি মৃত। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তিনি জীবিত। এ বক্তব্য প্রমাণ করতে তিনি আদালতে এফিডেভিট দিয়েছেন। আলী আহসান মোহাম্মদ মোজাহিদের পক্ষে আপিলে দাবি করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা বাতিল করতে। কিন্তু তাদের সে উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যেসব রায় দিয়েছে তার বেশির ভাগই গেছে বিরোধীদলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে তাদের বেশির ভাগই জামায়াতে ইসলামীর নেতা। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সব ক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।