ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:৩১ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বিপর্যস্ত নদী তীরের মানুষ

নদী তীরের জেলে গ্রাম জয়মনি ঘুরে দেখা গেছে নদী খালে মাছ ধরে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো কঠিন সঙ্কটে পড়ে গেছে। বিগত মঙ্গলবার শেলা নদীতে ফার্নেস তেল ভর্তি একটি ট্যাংকার ডুবে গেলে সাড়ে তিন লক্ষ লিটার তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে। সুন্দরবনের ইতিহাসে এটি এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টি করতে যাচ্ছে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

শেলা নদীর তীরের জয়মনি গ্রামের জেলেরা বলছেন, নদী খাল হঠাৎ করেই যেন মাছ শূন্য হয়ে গেছে। লুৎফর সানা জয়মনিতে একটি মাছের আড়ত চালান। পঞ্চাশ জনের মত জেলে প্রতিদিন মাছ ধরে এনে তার কাছে বিক্রি করে। চারদিন ধরে কোনো মাছ ধরা পড়ছে না। তিনি জানান, নদী-খালে জাল ফেললে তেল জড়িয়ে অকেজো হয়ে পড়ছে জাল। “একেকটি জালের দাম সাত-আট হাজার টাকা। গরম পানি করে চেষ্টা করবো তেল ছাড়ানোর … নিরুপায় হয়ে গেছিরে বাবা।”

প্রচুর হাঁস পোষেন এখানকার মানুষজন। এসব হাঁস নদী-খালে সাঁতরে বেড়ায়। নদী থেকেই শামুক ঝিনুক খুটে খায়।  আড়ৎদার জানান, গত কদিনে অনেক হাঁস মারা গেছে। “আমার নিজের মারা গেছে ছয়টি হাঁস।” সুন্দরবনের ধার ঘেঁষা জয়মনি গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকা সবকিছুই এই শেলা নদীর ওপর। বছরের এই সময়ে রান্নাও হয় নদীর পানিতে। গ্রামের গৃহবধূ তাহমিনা জানান, নদীতে তেল ভাসায় গোসল করতে পারছেন না। কাপড় ধুতে পারছেন না। ধুলে কাপড় নষ্ট হচ্ছে।

শ্বাসমূলে তেল জড়িয়ে কেওড়া ফুল মরে যাছে। কেওড়া ফুল সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বন্যপ্রাণী এই ফুল খায়। নদী-খাল থেকে হয়তো তেল উঠানো সম্ভব। কিন্তু জোয়ারের পানিতে বনের ভেতরে ঢুকে গিয়ে শ্বাসমূলে জড়িয়ে থাকার পরিণাম কি হবে, তা দেখতে হবে। শীতের এই সময়টাতে জয়মনিতে প্রচুর মৌসুমি পাখি দেখা যায়।  গতকাল সেখানে কোনো পাখি দেখতে পাননি।