শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৩৭ ঢাকা, সোমবার  ১৭ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান

বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানী ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশে আরো বেশি বিনিয়োগ করার জন্য জাপানী ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিদ্যমান ও নতুন সুবিধাসহ তাদের বিনিয়োগ নিরাপদ ও লাভজনক হবে বলে তিনি জাপানি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জাপানের অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার ইয়োশিহিরো সেরির নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফররত ২৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতের সময় গভর্নর বলেন, সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে আমাদের নীতি এবং বৈদেশিক পোর্টফলিও বিনিয়োগের (এফপিআই) অন্তঃপ্রবাহ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উদার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জাপানী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ কর্মকান্ডে সকল ধরনের সুবিধা প্রদানের নিশ্চয়তা দেন। তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশের স্থানীয় বিদেশী বিনিয়োগ গোষ্ঠীর জন্য ব্যবসা সংশ্লিষ্ট বহি:লেনদেন, মূলধন ও ঋণের অন্ত:প্রবাহ এবং রয়্যালটি বা কারিগরি ফি, মুনাফা বা লভ্যাংশ এবং মূলধনী মুনাফাসহ অবিনিয়োগকৃত অর্থ প্রেরণের বিষয়ে উদারনীতি অবলম্বন করছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গৃহীত উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলো হচ্ছে বিদেশে অবস্থানরত পরিবারের ভরণ পোষণের খরচ বাড়িয়ে বেতনের ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং তালিকাবহির্ভুত কোম্পানির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নিট সম্পদ মূল্যের পরিবর্তে সম্পদ, আয় এবং মুনাফা অর্জনের প্রবণতার ভিত্তিতে বৈদেশিক মূলধন প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ।
গভর্নর বলেন, বৈদেশিক মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দেশীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠানের মতই স্থানীয় ও বৈদেশিক উৎসের অর্থায়ন সুবিধা ভোগ করতে পারছে। এমনকি তাদের মূল প্রতিষ্ঠান থেকে বিনাসুদে ধার গ্রহণের ক্ষেত্রে এখন তাদের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হয় না।
উল্লেখ্য, জাপানী বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে সরকার চট্টগ্রামে বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা (এসইজেড) গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর এসইজেড-এ বিনিয়োগকারীদের জন্য একগুচ্ছ প্রণোদনা বিশেষ করে, নির্দিষ্ট সময় ভিত্তিক সম্পূর্ণ বা আংশিক কর, ভ্যাট ও স্ট্যাম্প মাসূল রেয়াত দেয়ার কথাও সরকার ভাবছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জাপানী ও বাংলাদেশী ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্পর্কিত নতুন নতুন খাতে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাপান আমাদের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু এবং বাংলাদেশকে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে জাপান সবসময় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে সহায়তা করবে বলে আমরা আশা রাখি।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের মার্চ মাসে গভর্নর জাপান সফর করেছিলেন এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে (আরসিইপি) যোগদানের জন্য জাপানের সহায়তা কামনা করেছিলেন।
বৈঠকে জাপানী মিনিস্টার আশ্বস্ত করেন, আগামী চার-পাঁচ বছরে জাপান সরকার বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বে অফ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ-বি) প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করার জন্য জলবায়ুজনিত বিনিয়োগ কর্মকান্ডে বাংলাদেশে ৬ বিলিয়ন ইয়েন আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। ট্রেনিং এবং স্কলারশীপের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহায়তা আরও বাড়ানো হবে বলে জাপানি মিনিস্টার নিশ্চয়তা দেন।