ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:০০ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ফাইল ফটো

বিনিয়োগের চমৎকার স্থান বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

হংকং সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে হংকং ও চীনের ব্যবসায়ীগণ লাভবান হবেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য এখন চমৎকার স্থান।

বাণিজ্যমন্ত্রী আজ বুধবার হংকং-এর সেক্রেটারি অফ কমার্স (বাণিজ্যমন্ত্রী) এন্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট গ্রীগরি সোকাম-লিয়াং-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ একথা জানানো হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ এসময় আরও বলেছেন, বর্তমান সরকারের বিনিয়োগ বান্ধব নীতি এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে। হংকং, চীনসহ পৃথিবীর অনেক দেশ এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশের ইপিজেড-এ হংকং-এর ২৭টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় আধা বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। সেখানে তারা লাভজনক ব্যবসা করছে।

বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। এ গুলোর উন্নয়ন কাজ চলছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আগত বিনিয়োগকারীদের এ সব জোন বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। চীন বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে এগিয়ে এসেছে। সরকার বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ আইন করে সংরক্ষণ করেছেন। কোন বিনিয়োগকারী চলে যেতে চাইলে শতভাগ মূলধন ফিরিয়ে নিতে পারবেন। বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশী পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের হংকং যেতে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে, এ সমস্যা দূর করা প্রয়োজন।

হংকং-এর সাথে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমানে দু‘দেশের মধ্যে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যবসা হচ্ছে। গত অর্থ বছরে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ২১৪ দশমিক ১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য, একই সময়ে আমদানি করেছে ৮০৫ দশমিক ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। উভয় দেশ বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। আগামী দিনগুলোতে উভয় দেশের বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। হংকং-এর বাজারে বাংলাদেশের ঔষধ, চামড়া, নীটওয়্যার, ওভেন, কটন ও সামুদ্রিক মাছের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ভিসা ও বাণিজ্য সমস্যা দূর করা হলে হংকং-এর বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়বে।

হংকং সফরের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা দূর করার আহবান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি শতকরা ৬ ভাগের বেশি হয়েছে, গত বছর হয়েছে ৭.১১ ভাগ।
দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে। এখন দেশের রপ্তানি প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২১ সালে এ রপ্তানি হবে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি করতে সরকার ব্যাপক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

পরে মন্ত্রী হংকং এর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং লিএ্যান্ড জুং প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ড. ভিকটরি জুং -এর নেতৃত্বে একটি বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সাথে মতবিনিময় করেন।

এ সময় মন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ, বিনিয়োগবান্ধব নীতি, প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাগুলো তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানান। হংকং-এর ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।