ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:৪৫ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বিনা ভাড়ায় সরকারি বাসায় রাজশাহী পুলিশ কমিশনার

এক বছরের বেশি সময় আগে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের বাসভবনের। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি বুঝে নেয়ার জন্য পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিলেও অজ্ঞাত কারণে তা নেয়া হয়নি। নির্মাণকাজ তত্ত্বাবধানকারী গণপূর্ত বিভাগের সহযোগিতায় আবেদন, সাক্ষাৎ ও আলোচনার পরও পুলিশ কমিশনার বাসভবন বুঝে নেননি। তবে সেই ভবনে তিনি ৮ মাস ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। সরকারি বাসভবনে পরিবার নিয়ে বসবাস করলেও দিচ্ছেন না কোনো বাড়িভাড়া। বৈদ্যুতিক বিলসহ অন্য সব খরচ দেয়া হচ্ছে আরএমপির তহবিল থেকে। সর্বশেষ গত মার্চে ঠিকাদার পুলিশ সদর দফতরের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন পাঠিয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনো ফল হয়নি।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধি বলেন, বাসাটির নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ শেষ হয়েছে ২০১৪ সালের মার্চে। আমরা পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবনটি বুঝে নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কমিশনার সাড়া দেননি। কিন্তু তিনি ভবনে পরিবার নিয়েই বসবাস করছেন। তিনি আরও বলেন, আগের পুলিশ কমিশনারও এ বাসায় ৯ মাস পরিবার নিয়ে বাস করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আরএমপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বলেন, বাসভবনের কিছু বৈদ্যুতিক কাজ এখনও শেষ হয়নি বলে ঠিকাদারের কাছ থেকে বুঝে নেয়া হয়নি। ছোটখাটো আরও কিছু কাজ বাকি আছে। তবে বর্তমান কমিশনার পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। সাবেক কমিশনারও পরিবার নিয়ে ৯ মাস ছিলেন এ বাসভবনে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি বলেছেন, বাসভবনের কোনো কাজই এখন অসম্পন্ন নেই। কাজ বাকি থাকলে পুলিশ কমিশনার পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন কীভাবে, প্রশ্ন করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বোয়ালিয়া ক্লাব এলাকায় পদ্মার ধারে তিন তলাবিশিষ্ট পুলিশ কমিশনারের বাসভবন গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাধবানে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে। ভবনটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আনুষঙ্গিক সব কাজ শেষে ওই বছরের ২০ মার্চ বাসভবনে পরিবার নিয়ে উঠেন আরএমপির সাবেক পুলিশ কমিশনার ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান। ২০১৪ সালের ২১ নভেম্বর তিনি বদলি হয়ে গেলে ২৩ নভেম্বর ডুপ্লেক্স এ ভবনে পরিবার নিয়ে উঠেন বর্তমান পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন। সেই থেকে অদ্যাবধি তিনি বাসভবনটিতে পরিবার নিয়েই বসবাস করছেন।
পুলিশের বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া অভিযোগে জানা গেছে, ভবনটি বুঝে না নিলেও আবাসিক ভবনের সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কমিশনার বাসভবনে বসবাস করছেন। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি বাসভবনে বসবাস করলে মূল বেতনের ৪৫ ভাগ বাড়িভাড়া কর্তনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু কমিশনারের বেতন থেকে বাড়িভাড়া কর্তন করা হয় না। অন্যদিকে বাসভবনের বিদ্যুৎ বিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত খাত থেকে পরিশোধের নিয়ম থাকলেও কমিশনারের বাসভবনের বিদ্যুৎ বিল দেয়া হচ্ছে আরএমপির তহবিল থেকে। এই বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ মাসভেদে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২০ মার্চ থেকে বাসভবনটির বিদ্যুৎ বিল বাবদ ২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আরএমপির তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে সাবেক ও বর্তমান কমিশনারসহ দুই কমিশনারের বেতন থেকে ভাড়া কর্তন না করায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫১ হাজার টাকা।
বাসভবনে বসবাসের পরও বাড়িভাড়া না দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিল অনুমোদন প্রসঙ্গে আরএমপির বিল অনুমোদনকারী কর্মকর্তা উপকমিশনার (সদর) তানভীর হায়দার চৌধুরী বলেন, তিনি জানেন না কমিশনারের বেতন থেকে বাড়িভাড়া কর্তন করা হয় কিনা। আর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ কোথা থেকে হচ্ছে সেটাও তিনি জানেন না। তবে তিনি নিশ্চিত করেন বাসভবনটি আরএমপির কাছে হস্তান্তর হয়নি। এ জন্য ভবনটির কোনো দায়ও আরএমপির কাঁধে এখন পর্যন্ত নেই।
এসির দখলে হাসপাতালের আরএমও’র বাসা : এদিকে কমিশনার সরকারি বাসভবনে ভাড়ামুক্তভাবে বসবাস করার ঘটনার পাশাপাশি বোয়ালিয়া মডেল থানার সহকারী কমিশনার (এসি) এসএম মাহমুদ হাসান রাজশাহী বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) জন্য বরাদ্দ করা বাসভবনে থাকছেন পরিবার নিয়ে। কয়েক মাস আগে এসি মাহমুদকে বাসাটি বরাদ্দ করে আরএমপির সংশ্লিষ্ট বিভাগ। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে হাসপাতাল অঙ্গনে সার্বক্ষণিক অবস্থানের প্রয়োজনেই দুই ইউনিটের বাসাটির একটি পুলিশ হাসপাতালের আরএমও ডা. নজরুল ইসলামের নামে বরাদ্দ করা হয়। তিনি পরিবার নিয়ে কিছুদিন এ বাসায় বসবাস করলেও পরে চলে যান হাসপাতাল ক্যাম্পাসের বাইরে নগরীর লক্ষ্মীপুরে। বর্তমানে এসি মাহমুদ এ হাসপাতাল ক্যাম্পাসের আরএমও’র বাসাতেই বসবাস করছেন। এদিকে সরকারি বাসভবনে বসবাস করলেও এসির বেতন থেকে বাড়িভাড়া কাটা হয় কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
অভিযোগের বিষয়ে যুগান্তরের খবরে আরও বলা হয়, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী পুলিশ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুমায়ুন কবীর স্বীকার করেন আরএমওকে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে থাকতে হয় সার্বক্ষণিক দায়িত্বে। এ জন্যই তাকে সরকারি বাসা দেয়া হয়। কিন্তু আরএমও ক্যাম্পাসের বাইরে চলে যাওয়ায় বাসাটি একজন পুলিশ কর্মকর্তার নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।