Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:০০ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিনারক্ত পাতে কোনকিছুই পাইনি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের যা কছু অর্জন সববিছুই রক্ত দিয়ে করতে হয়েছে। বিনারক্ত পাতে কোনকিছুই পাইনি।

প্রধানমন্ত্রী আজ রাজধানীর বাংলা একাডেমীতে অমর একুশে উপলক্ষে মাসব্যাপী গ্রন্থমেলার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

সরকার প্রধান বলেন, এটা ঠিক আমাদের যা কছু অর্জন সববিছুই রক্ত দিয়ে করতে হয়েছে। বিনারক্ত পাতে কোনকিছুই পাইনি।
তিনি বলেন, আজকে আমরা স্বাধীন জাতি, আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার থেকে শুরু করে বাঙালি জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে যে মর্যাদার আসন, সে আসনও আমাদের বহু ত্যাগ-তীতিক্ষার মধ্যদিয়ে অর্জন করতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ’৭৫-এর বিয়োগান্তক অধ্যায় স্মরণ করে বলেন, আমরা সমগ্র বিশ্বে একবার মর্যাদা পেয়েছিলাম ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্যদিয়ে। যা ভুলুন্ঠিত হয়েছিল ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে।

শেখ হাসিনা বলেন, তখন আমরা খুনী জাতি হিসেবে বিশ্বে পরিচিত হয়েছিলাম। আজকে সেই খুনীদের আমরা বিচার করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি ও করছি এবং আমাদের জাতীয় পতাকাকে সমুন্নত করে বিশ্ব সভায় আবারো একটা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছি। আর্থ-সমাজিকভাবে আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার দিক থেকেও আমরা পিছিয়ে নেই,এগিয়ে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা আজকে বিপথে (সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-মাদকাশক্তি) চলে যাচ্ছে- তাদের সেই ভুল পথ থেকে বিরত রাখা যায় কেবলমাত্র সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে।’

তিনি বলেন ‘লেখাপড়া, সংস্কৃতি চর্চা যত বেশি হবে ততই তারা ভালো পথে চলে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি’।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা এবং এখানে যারা উপস্থিত সকলকে এই আহবানই জানাবোÑ সকলে বই পড়বে। …বই পড়ার ভেতর যে আনন্দ, বই পড়লে যেমন জ্ঞান অর্জন করা যায়, তেমনি অনেক কিছুই ভুলে থাকা যায়।’

একই সময় তিনি ৪ দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন-২০১৭’ উদ্বোধন করেন এবং ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬’ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

স্বাগত বক্তৃতা করেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, শুভেচ্ছা বক্তৃতা দেন সংস্কৃতি সচিব বেগম আকতারী মমতাজ, প্রকাশকদের পক্ষে বক্তৃতা করেন বাংলা একাডেমীর ফেলো মফিদুল হক।

অনুষ্ঠান উপস্থিত বিদেশী অতিথিগণের মধ্যে বক্তৃতা করেন- চীনের রবীন্দ্র সাহিত্য বিশারদ অধ্যাপক ড. ইউ চেন, অস্ট্রিয়ার কবি মেনফ্রেড কোবো, পুয়ের্তোরিকোর মিঁজ লুস মারিয়া লোপেজ, জার্মানীর লেখক ও প্রকাশক টবিয়াস বুর্কহাডর্, ভারতের অধ্যাপক চিন্ময় গুহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকসহ বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন ও দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতি সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

জাতির পিতার অবদান বলে শেষ করা যাবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আজকে আমাদের এই ২১শের এই গ্রন্থমেলার ব্যাপ্তি আর আমাদের ভূখন্ডে সীমাবদ্ধ নেই, সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এটা আন্তর্জাতিকভাবেও আজ স্বীকৃত। এখানে সাহিত্য সম্মেলনও হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বইমেলায় বিদেশীদের অংশগ্রহণ এবং তাদের বাংলায় বক্তৃতা দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘কি চমৎকার বাংলায় তারা আমাদের বক্তৃতা শোনালেন, বিভিন্ন কবিতাও তারা অনুবাদ করেছেন। কাজেই এই অনুবাদের মধ্যদিয়েই আমরা একে অপরকে জানতে পারছি। ভাষার আদান-প্রদান, সংস্কৃতির আদান-প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, সাহিত্যের মধ্যদিয়েই একটা সমাজের অবস্থা আমাদের সামনে উঠে আসে।

যারা বইপ্রেমিক সকলেই এই বইমেলার জন্য অপেক্ষা করে থাকে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, কবে বইমেলাটা শুরু হবে। সারাবছর ধরে অপেক্ষা। কাজেই এই বইমেলার মধ্যদিয়ে বইমেলা চত্বর একদিকে যারা সাহিত্য চর্চা করেন, যারা প্রকাশকরা এবং যারা বই পড়তে পছন্দ করেন সেই ছোট্ট শিশু থেকে সকল বয়েসীদের একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।

নিজের বইমেলায় আগমণের স্মৃতি রোমন্থন করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার খালি একটাই দুঃখ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার ফলে এখন আর আগের মতন এই বইমেলায় আসতে পারি না। এটাই সবচেয়ে দুঃখের, হাত-পা বাধা কি করবো। সবাই যখন আসেন দেখি, তখন এখানেই মনটা পড়ে থাকে।

তিনি বলেন, আর আমি বন্দিখানায় পড়ে থাকি। বন্দিখানা এই অর্থেই বলবো, যখন কারাগারে ছিলাম সেটা ছিলো ছোট কারাগার আর এখনতো সরকার প্রধান হিসেবে অনেক দায়িত্বে থাকতে হয়, ব্যস্তও থাকতে হয়। আবার অনেক কিছু মেনেও চলতে হয়। ইচ্ছে থাকলেও অনেক সময় হয়ে ওঠে না।