ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:৫৩ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ১২৭৮ কোটি টাকার প্রকল্প’

পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ হওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের বর্ধিত বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণসহ ৫টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।এসব প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৩৫৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৯৫কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠকশেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ওয়েস্ট জোন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও আপগ্রেডেশন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে,পদ্মা সেতু নির্মাণশেষে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে যে বর্ধিত বিদ্যুৎ চাহিদা তৈরি হবে, তা পূরণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলের ৫২ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ সেবার আওতায় আসবে।

তিনি বলেন, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিভিউশন কোম্পানীর অধীন এক হাজার ২৭৮ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময় চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত।তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন সময় কমিয়ে প্রধানমন্ত্রী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

প্রকল্পের আওতায় ১০৫৪ দশমিক ২৫ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ এবং ৬২ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নবায়ন করা হবে।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া থ্রিজি প্রযুক্তি চালুকরণ প্রকল্প প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের দুর্ঘম এলাকায় থ্রিজি সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য সরকার টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘থ্রিজি প্রযুক্তি চালুকরণ এবং ২.৫ জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (ফেজ-২)’প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।প্রকল্পের আওতায় ১৫৬২টি বিটিএস টাওয়ার স্থাপন করা হবে।

প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতায় টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড (টিবিএল) প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৬০৭ কোটি ৭৯ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৬৮ কোটি ২ লাখ টাকা।

মুস্তাফা কামাল বলেন, ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নর্থবেঙ্গল চিনিকলে উৎপাদন বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য ৩২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘নর্থবেঙ্গল চিনিকলে কো-জেনারেশন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সুগার রিফাইনারী স্থাপন প্রকল্প’ অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় বায়োগ্যাস ও বায়োকম্পোস্ট উৎপাদনের মাধ্যমে অলাভজনক এই চিনিকল লাভজনক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য দু’টি প্রকল্প হলো-১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে‘বানিয়াচং-আজমিরিগঞ্জ সড়ক নির্মাণ’প্রকল্প। এছাড়া ‘টেকনাম-রামু-গ্যারিসন-মরিচ্যা-পালং সংযোগ সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

সভায় একনেক সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং জ্যেষ্ঠ সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।