ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:২৪ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৯শে জুন ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

বিদেশী হত্যায় জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদেশীদের যারা খুন করেছে, তাদের খুঁজে বের করবোই; বিচারও করবো।
তিনি বলেন, দেশের ভাবমূর্তি যারা ক্ষুণ্ন করছে এবং যারা জঙ্গিবাদের মদদ দিচ্ছে, তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
পরিবেশ বিষয়ক ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ এবং আইসিটি পুরস্কার অর্জন করায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখনই বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে চায় এবং বাংলার মানুষ যখনই মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়, তখনই দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠে।
শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে সময় আমাদের কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে পুরস্কৃত করছে, ঠিক তখনই দুইজন বিদেশিকে হত্যা করা হল। এগুলো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
তিনি বলেন, মানুষ যেন নিরাপদে থাকতে পারে এবং স্বাচ্ছন্দে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে, এটাই তার সরকারের চাওয়া।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে বাংলার মাটিতে এসেছি। আমার পাওয়ার আর কিছু নেই। তবে যারা এ দেশের ক্ষতি করতে চায় তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
‘বাঙালি জাতিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না’ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের এ উদ্বৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাংলাদেশ তার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে মাথা উঁচু করে চলবে।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য তার সরকার এমন কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার ফলে বাঙালী জাতি বিশ্বসভায় মাথা উচুঁ করে চলতে পারবে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। আমাদের এই ধরিত্রীর অতি উষ্ণায়ন এবং বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলতঃ উন্নত দেশগুলোই দায়ী। অথচ ঝড়, জলোচ্ছাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদির মোকাবেলা আমাদেরই বেশি করতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কারো মুখের দিকে তাকিয়ে থাকিনি। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি। বিগত পাঁচ বছরে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতি সম্প্রদায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সময় পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়গুলো যথাযথভাবে পালন করলে সরকারের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যায়।
শিল্প-কারখানার জন্য জমি কেনার সময় কৃষি জমি, জলাধার ও পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে নজর দেয়ার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।
দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পথ তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভৌগলিক পরিবেশ মাথায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ভারত, ভুটান, নেপালকে নিয়ে ৪ দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং চীনকে নিয়ে বাণিজ্যিক অঞ্চল তৈরি করা হয়েছে।
দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কোন অঞ্চলে কোন পণ্য উৎপন্ন হয়, কোন কোন পণ্য বিশ্বে রফতানি করা যাবে, সরকার সে তালিকা তৈরি করে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে পণ্য রফতানি সহজ হবে। দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমকা বৃদ্ধি পাবে। ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। স্বাগত বক্তৃতা দেন এফবিসিসিআইয়ের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি মতলুব আহমেদ।
এছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন, সংগঠনটির সদ্য বিদায়ী সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, প্রথম সহ-সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম।