ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:১১ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

খালেদা জিয়া ও মাহবুব-উল-আলম হানিফ
খালেদা জিয়া ও মাহবুব-উল-আলম হানিফ

বিদেশী প্রভুদের নির্দেশে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার লড়াইয়ে খালেদা

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেছেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার বিদেশী প্রভুদের নির্দেশে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।
তিনি আজ দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
গত ২ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বেগম খালেদা জিয়ার একটি আলোচনা সভায় দেয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
এ সময় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কার্য নির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী ও একেএম এনামুল হক শামীম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকতে যে অপকর্ম করেছিলো এবং বিরোধী দলে থাকার সময় যে অপকর্ম করেছে সেগুলোকে ঢাকার জন্য মিথ্যাচারের অপচেষ্টা চালিয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের জনগণের জন্য রাজনীতি করে। আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে কখনও কেউ দেখে নাই। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে হত্যা-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি কাকে বলে সেটা তখন খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমান দেখিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় শোক দিবসে মিথ্যা জম্মদিন বানিয়ে কেক কেটে উল্লাস করার মধ্য দিয়ে বেগম জিয়া যে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে তা বুঝা যায়।
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া জঙ্গী মানসিকতায় বিশ্বাসী। তিনি প্রভুদের নির্দেশে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন।
‘ক্ষমতায় গেলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবো’ খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যেকে ‘ভুতের মুখে রাম নাম’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বেগম জিয়া ক্ষমতায় থাকতে দেশকে জঙ্গীরাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। দূর্নীতিতে দেশকে ৫বার চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিলেন। আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। খালেদা জিয়া এখন দেশের মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম। হত্যা-খুনের রানী খালেদাকে মানুষ ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘লেডি হিটলার’ বলার নিন্দা জানিয়ে হানিফ বলেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার হীন মানসিকতার বর্হিপ্রকাশ ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোর। উনার মত মা-ছেলে মিলে সরকারের ভেতরে সরকার হাওয়া ভবন তৈরী করে দূর্নীতির উৎসবে বিশ্বাসী নয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ও গত ৫ জানুয়ারীর মতো আন্দোলন হয় নি বেগম জিয়ার এমন দাবীর জবাবে হানিফ বলেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে যেভাবে পেট্রলবোমা দিয়ে নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে সেটা কোন আন্দোলন ছিল না। তাই বিএনপি জামায়াতের নাশকতাকে জনগণ প্রতিরোধ করেছে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধকে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নাশকতার সাথে তুলনা করে তার পাকিস্তানী চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
বিডিআর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে বেগম জিয়ার বক্তব্যের জবাবে হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারকে উৎখাত করার জন্যই বিডিআর বিদ্রোহ ঘটানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে বেগম জিয়ার ভূমিকা রহস্য জনক। কেননা সরকার যেখানে এ সম্পর্কে কিছু জানেনা সেখানে বেগম জিয়া কিভাবে এ বিদ্রোহের কথা জানলেন।
তিনি বলেন, তিনি(বেগম জিয়া) বিদ্রোহের দিন এত সকালে কিভাবে ঘুম থেকে উঠলেন। তিনি বিদ্রোহের সময় কোথায় এবং কেন গিয়েছিলেন? তা জানতে পারলে কে এ বিদ্রোহের সাথে জড়িত তা জানা যাবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের মামলায় বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের আইনজীবারা বিএনপি জামায়াত সমর্থিত। এর মাধ্যমেও প্রমান হয় কে বা কারা এ বিদ্রোহের সাথে জড়িত ছিল।
বিএনপির জাতীয় ঐক্যের আহবানের জবাবে হানিফ বলেন, বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধী উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তির সাথে ঐক্য করেছেন। যুদ্ধাপরাধী ও খুনীদের সাথে আওয়ামী লীগের ঐক্য হতে পারে না।
তিনি বলেন, বিএনপিকে জাতীয় ঐক্যের আগে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদ এবং যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে ত্যাগ করে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে আসতে হবে।
সম্প্রতি ব্লগার হত্যার বিষয়ে হানিফ বলেন, মুক্তমনা ব্লগারদের হত্যাকারীদের বিচার করতে সরকার বদ্ধপরিকর। যারাই এ হত্যার সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।