ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:৩৩ ঢাকা, বুধবার  ১৫ই আগস্ট ২০১৮ ইং

বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বার্নিকাটের সন্তোষ প্রকাশ

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মারসিয়া বার্নিকাট বাংলাদেশে দু’জন বিদেশী নাগরিকের হত্যাকান্ডের পর বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তায় সরকার গৃহীত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, তারা এখন এখানে নিরাপদ মনে করছেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট আজ এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, পুলিশ খুব দায়িত্বশীল আচরণ করছে এবং তাদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেয়ায় আমরা এখন নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করছি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আজ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতাকালে একথা বলেন।
বার্নিকাট সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এ ধরনের কর্মকান্ড বাংলাদেশের অর্জনকে ম্লান করে দিতে পারবে না। বাংলাদেশ স্বল্প সময়ে অনেক অর্জন করেছে। কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বাংলাদেশের এই বিস্ময়কর অর্জনে কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বের যে কোন এ ধরনের সকল ঘটনার জন্য আইএসআই ক্রেডিট নেয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে তাদেরকে এর সত্যতা যাচাই করে দেখতে হবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে তাদের নাগরিকদের রক্ষা করা। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ তাদের নাগরিকদের চলাচলের ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা প্রথম হত্যাকান্ডের আগেই জানতাম, কিছু বিশ্বাসযোগ্য হুমকি ছিল।
হত্যাকান্ডের পর মার্কিন দূতাবাসের জারিকৃত পরামর্শ সম্পর্কিত অপর এক প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট বলেন, তারা কাউকে বাংলাদেশে আসতে নিষেধ করেননি। এমনকি কাউকে বাংলাদেশ ছেড়ে যেতেও বলেননি। আমরা শুধুমাত্র আমাদের নাগরিকদেরকে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছি। আমরা আমাদের নাগরিকদেরকে আতংকিত না হবার পরামর্শ দিয়েছি। তবে তাদেরকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের কোথাও আইএস’র অস্তিত্ব আছে কিনা এ সম্পর্কিত অপর এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে আইএস’র উত্থান বন্ধে যা যা প্রয়োজন, তারা সবকিছু করছে। তিনি আরো বলেন, আইএস’র অস্তিত্ব মোকাবেলায় আমাদের যা প্রয়োজন, তার সবকিছুই করব। আমাদেরকে কখনোই শত্রুকে খাটো করে দেখা ঠিক হবে না। তিনি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় যৌথ প্রচেষ্টা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বার্নিকাট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের ওপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ভাষণের প্রশংসা করে বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য ছিল খুবই শক্তিশালী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নে বড় বাধা। সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম ও দেশ নেই।
বার্নিকাট জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ভাষণের কিছু বক্তব্য উল্লেখ করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সন্ত্রাস দমন প্রশ্নে বলেছিলেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সকল দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়তে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার যৌথ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সদ্যসমাপ্ত শান্তিমিশন সম্মেলনের কথাও উল্লেখ করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আগের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন শক্তিশালী এবং আমাদের স্বার্থেই এই সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করতে হবে। আমরা বাংলাদেশকে আমাদের পূর্ণাঙ্গ অংশীদার ঘোষণা করেছি। ফলে আমরা নিরাপত্তা, উন্নয়ন অথবা অর্থনৈতিক ইস্যুতে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
জিএসপি সুবিধা প্রশ্নে বার্নিকাট বলেন, আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্র রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদেরকে আরো কাজ করতে হবে এবং আমি মনে করি জিএসপি পুনর্বহালের কোন বিকল্প নেই।
ডিক্যাব সভাপতি মাসুদ করিম এবং সাধারণ সম্পাদক বশির আহমেদও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।বাসস