ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:৫৩ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

বিজেপির ভরসা শেখ হাসিনাতেই

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি। বিজেপির প্রথম সারির নেতারা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার মতো ‘পরীক্ষিত বন্ধু’র পাশ থেকে সরে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তবে তারা এটাও স্বীকার করছেন, বিরোধী বিএনপির সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ আছে। কিন্তু সেটা স্বাভাবিক রাজনৈতিক সম্পর্কের বাইরে কিছু নয়। তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাম্প্রতিক ভারত সফরেও বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর ভারত ও আমেরিকা উভয়েই গুরুত্ব আরোপ করেছে।
ভরসা শেখ হাসিনাতেই : ৫ জানুয়ারির যে নির্বাচনের বর্ষপূর্তি থেকে বর্তমান সংকটের শুরু, সেই নির্বাচনকে বলিষ্ঠভাবে সমর্থন করেছিল প্রতিবেশী ভারত। তার কয়েক মাসের মধ্যে ভারতেই ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু কংগ্রেসকে হটিয়ে যারা দিল্লির ক্ষমতায় এসেছে সেই বিজেপি নেতৃত্বও শেখ হাসিনার ওপর পুরোপুরি ভরসা রাখতে রাজি।
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা সিদ্ধার্থ নাথ সিং বলেন, ‘ভারতের সম্পর্কটা যদিও বাংলাদেশের সঙ্গে, তারপরও কোন দল সেখানে ক্ষমতায় সেটাও কিন্তু একটা ফ্যাক্টর। আর সে দিক থেকে বলতেই হবে, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের স্বার্থের প্রতি, আমাদের উদ্বেগের প্রতি দারুণ বিবেচনা দেখিয়েছে। আর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে ভারত যে জাতীয় স্বার্থকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’
ফলে শেখ হাসিনার ব্যাপারে ভারতের মোটেই কোনো ধৈর্যচ্যুতি হয়নি বলেই বিজেপি নেতারা বলছেন। বরং তাদের যুক্তি, ‘গণতন্ত্রের ওপর আস্থা রাখতে গেলে শেখ হাসিনাই কিন্তু আমাদের একমাত্র অপশন। কারণ ভারত মনে করে, তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারের প্রধান।’
‘শান্তি চাই, তবে হস্তক্ষেপ নয়’ : ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দিন বলেন, ‘আমরা সব সময় চাই আমাদের দেশে ও প্রতিবেশী দেশে শান্তি থাকুক। কিন্তু প্রতিবেশী দেশে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠলেও সেখানে নাক গলানো বা হস্তক্ষেপ করাটা কিন্তু ভারতের নীতি নয়। সেটা ভারত কখনও করেনি, করবেও না।’
শ্রীলংকা, নেপাল বা তিব্বতের ইতিহাসের দিকে তাকালে এ বক্তব্য মেনে নেয়া কঠিন। কিন্তু বিজেপি নেতারা দাবি করছেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটা পুরোপুরি সত্যি কথা। কারণ বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে ভারত শেখ হাসিনার সমস্যা বাড়াতে চায় না।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের ধারণা, বাংলাদেশে এ মুহূর্তে সামরিক অভ্যুত্থানের কোনো আশংকা নেই, ফলে অভ্যুত্থান হলে তারা শেখ হাসিনাকে সমর্থন করবেন কিনা সে প্রশ্নও অবান্তর।
বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ : বিজেপির শীর্ষ নেতারা স্বীকার করছেন, বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গেও গত আট মাসে ধীরে ধীরে একটা রাজনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বিগত ইউপিএ আমলে বিএনপির সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ একরকম থেমেই গিয়েছিল, সেটা আবার নতুন করে শুরু হয়েছে।
তবে প্রসঙ্গটা এমনই স্পর্শকাতর, বিজেপি নেতারা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতেও চান না। আবার অস্বীকারও করতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতারা একটা কথাই জোর দিয়ে বলছেন, বাংলাদেশ সংকটের সমাধান খুঁজতে হবে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই- তার অর্থ যেভাবেই করা হোক না কেন। গণতন্ত্রের বাইরে এ সংকটের অন্য কোনো সমাধান নেই, সেটাও তারা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন।