ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:০৪ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

প্রধান বিচারপতি
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফাইল ফটো

‘বিচার বিভাগের দায়িত্ব পালনে হস্তক্ষেপ নয়’

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, বিচার বিভাগ এর (সংবিধানের মুল চেতনা) সীমার বাইরে গিয়ে অন্য বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। তেমনিভাবে রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগ বিচার বিভাগের দায়িত্ব পালনে কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করবে না বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি এক বাণীতে একথা বলেন। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার রায়ে সব আসামির শাস্তি বিচার বিভাগের উপর মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে উক্ত মামলার বিচার নিষ্পত্তি করায় দেশের আপামর জনগণের আস্থা বিচার বিভাগের প্রতি আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, অপরাধী যত বড় হোক না কেন, সে দায়মুক্তি পাবে না। চাঞ্চল্যকর সাতখুনের মামলা প্রভাবশালী আসামি র‌্যাবের কতিপয় কর্মকর্তা রোমহর্ষক হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে, যা সমগ্র জাতিকে স্তম্ভিত করেছে।

প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মামলা জট, আইনের সংস্কার, বিচার বিভাগের অবকাঠামোগত ও জনবল সঙ্কট, বিচার বিভাগের সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্কসহ নানা বিষয়ে নিজের মত তুলে ধরেন। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিচার বিভাগের ভূমিকা অপরিহার্য মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ এর (সংবিধানের মুল চেতনা) সীমার বাইরে গিয়ে অন্য বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। তেমনিভাবে রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগ বিচার বিভাগের দায়িত্ব পালনে কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করবে না বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। মামলা জটের জন্য ত্রুটিপূর্ণ ও সেকেলের আইনকেও দায়ী করে তিনি বলেন, তার দায়িত্ব পালনের দুই বছরে মামলা নিষ্পত্তি বৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। তিনি এ বিষয়ে তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে সব আদালতে ২৭ লাখ ৬০ হাজার ২৪০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময় ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে দেশের সকল আদালতে মামলা নিষ্পত্তির পরিমাণ ছিল ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৮৩৮। বিগত ২ বছরে মামলা নিষ্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪০২টি। ফলে নিষ্পত্তির হার ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেটে প্রকাশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, বিচারকরা স্বতন্ত্র আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে বিচার বিভাগ পৃথককরণের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে।

মামলাজট নিরসনের ক্ষেত্রে বিচারক সংকটের বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশে বিচারকের সংখ্যা অত্যন্ত নগন্য। আমেরিকায় ১০ লাখ মানুষের জন্য ১০৭ জন, কানাডায় ৭৫ জন, ইংল্যান্ডে ৫১ জন, অষ্ট্রেলিয়ায় ৪১ জন ও ভারতে ১৮ জন বিচারক রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে ১০ লাখ মানুষের জন্য মাত্র ১০ জন বিচারক রয়েছে। তদুপরি অবকাঠামোগত সুযোগ নাই। জনসংখ্যা ও মামলার সংখ্যা অনুপাতে বিচারক নিয়োগ করা এখন সময়ের দাবি।

জনবল সংকটের পাশাপাশি বিচারাঙ্গণে অবকাঠামোগত সংকটের কথাও তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, ৪২টি জেলায় ম্যাজিস্ট্রেসি বিল্ডিং নির্মাণের প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২টি জেলায় নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দুই-তিন মাসের মধ্যে আরো ১৭-১৮টি ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

একটি পূর্ণাঙ্গ ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি স্থাপনের জন্য সরকারকে ২৫ একর জমি বরাদ্দ প্রদানে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করেন তিনি। বিচার বিভাগের কাজকে গতিশীল করতে ডিজিটাইজেশনের জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, উচ্চ ও নিম্নআদালতে ই-কোর্ট ব্যবস্থা চালু, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্য ধারণ ও সংরক্ষণ, জেলাভিত্তিক ও কেন্দ্রীয় কারাগারের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সিং এর সুবিধা চালু, দেশের বিচার ব্যবস্থায় ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের প্রচলন এবং বিচারিক কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক তিন বছর মেয়াদী ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প গ্রহণ করার বিষয়টি অনেক এগিয়েছে। তিনি বলেন, জেলা জজ পর্যায়ের বিচারকদের ছুটি ও কর্মস্থল ত্যাগের বিষয়টি সহজীকরণের লক্ষ্যে ই-এপলিকেশন সফটওয়ার চালু করা হয়েছে।

বিচার বিভাগের সার্বিক কল্যানে যারা সহযোগিতা করেছে-তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি।-বাসস