ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:৫১ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মাহবুবে আলম
এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

‘বিচারকে নষ্টের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম’

এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী বিচারকে নষ্ট করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

এটর্নি জেনারেল বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধে মীর কাসেম আলীর লবিস্ট নিয়োগের বিষয়ে আপিল শুনানির সময় আমরা একটি কাগজ দাখিল করেছিলাম। আদালত বলেছেন, বিচার বন্ধে ২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন কি করেননি তা প্রমাণসাপেক্ষে। তিনি জানান, লবিস্টদের দেয়া রশিদ বিবেচনায় নিয়ে আপিল বিভাগ রায়ে বলেছেন, মীর কাসেম আলী খুবই প্রভাবশালী ব্যক্তি, তিনি এ বিচারকে নষ্ট করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এ মামলার রায়ে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এটর্নি জেনারেল।

মীর কাসেম আলীর আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আজ নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিং তিনি এ কথা বলেন। এর আগে মীর কাসেম আলীর আপিলেও মৃত্যুদন্ড বহালের ২৪৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে আপিল বিভাগ। মীর কাসেম আলীর আপিল মামলায় রায় প্রদানকারী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রায়ে আজ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে তা প্রকাশিত হলো।

এটর্নি জেনারেল জানান, আইন অনুসারে আজই পূর্ণাঙ্গ রায় যাবে বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। সেখান থেকে মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়ে রায়সহ যাবে কারাগারে। সেখানে মীর কাসেম আলীকে রায় অবগত করা হবে। রায় অবগত হওয়ার পর তিনি রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন জানানোর জন্য ১৫ দিন সময় পাবেন। এ আবেদন জানালে এর নিষ্পত্তিতে শেষ হবে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া। আসামিপক্ষ রিভিউ আবেদন জানালে আমরা শুনানিতে আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবো। এখন আসামিপক্ষ রিভিউ করেন কি-না, সেটির জন্যে অপেক্ষায় আছি।

এটর্নি জেনারেল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্রগ্রামের আলবদর কমান্ডার যে সব মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন তাতে তার সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রাপ্য ছিল। রায়ে প্রত্যাশিত ফল পেয়েছি। যুদ্ধাপরাধী যারা মুক্তিযুদ্ধকালীন ছাত্রসংঘের নেতৃত্বে থেকে পাক বাহিনীর সহয়োগী আলবদর বাহিনী করা হয়েছিলো তাদের বিষয়ে দেয়া রায় কার্যকরে জাতি কলংক মুক্ত হচ্ছে।

এটর্নি জেনারেল বলেন, মামলায় আনা ১১ নম্বর অভিযোগে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদন্ড বহাল রাখা হয়েছে। এ অভিযোগে রয়েছে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমসহ ছয়জনকে আটক, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ। কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে অপহরন করে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করে মেরে ফেলার অভিযোগ সর্বোচ্চ আদালতের রায়েও প্রমানিত হয়েছে।