ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:১৬ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ফাইল ফটো

বিএনপি নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন , বিএনপি ইচ্ছে করে নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বিএনপি জানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না, নির্বাচন কমিশন (ইসি)’র অধীনে নির্বাচন হবে। তারপরও তারা ইচ্ছা করে নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়, না নির্বাচন সহায়ক সরকার চায়, তা নিয়ে এখন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) ইসির কাছে সহায়ক সরকারের দাবি করেছে। এটা তো কমিশনের এখতিয়ার নয়। তাদের এক নেতা বলেছেন তারা যে কোন মূল্যে নির্বাচনে অংশ নেবেন। আবার আরেক নেতা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবেন না। এ বিষয়ে আগে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহনের কথা বলেন কাদের।

ওবায়দুল কাদের আজ সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন বিশ্বের প্রামান্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি দান উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাব এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি সাইফুল আলম, আজিজুল ইসলাম ভূইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বপন সাহা ও সিনিয়র সদস্য জাহিদুজ্জামান ফারুক । জাতীয় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের পরিচালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার অসৌজন্যমূলক আচারনের জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক বোঝাপড়া সম্ভব হচ্ছে না।“রাজনীতি থেকে সৌজন্যতাও চলে গেছে। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘হাসিনা’ বলে সম্বোধন করেন। এতে আমাদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে।’

এ ধরনের রাজনৈতিক পরিবেশে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির ‘ ওয়ার্কিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ কিভাবে হবে প্রশ্ন রেখে আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকো মারা যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন মা হিসেবে খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী কে সেদিন খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে দেওয়া হয় নি। দরজা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এ ধরনের অসৌজন্যমূলক আচারনের পর সংলাপের কি কোন পরিবেশ থাকে। ঘরের দরজা বন্ধ করে সেদিন থেকেই সংলাপের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েন সম্পর্কে সেতুমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনী নিরাপত্তা বাহিনী। তারা দেশ রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। তারা আইন-শৃঙ্খলা প্রয়োগ কারী সংস্থা নয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ(আরপিও)তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী অর্ন্তভূক্ত নেই। তবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনো নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে নয়। নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে তারা সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করতে পারে’।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, এটি বাঙালির সম্পদ, আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ ভাষণই স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল মুক্তিকামী জনতাকে। সেদিন এ ভাষণ নেতৃত্ব দিয়েছিল, কর্তৃত্ব করেছিল, শানিত করেছিল চেতনা। দীর্ঘ সময় ধরে এদেশে এ ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার করা ছিল নিষিদ্ধ। রেডিও-টেলিভিশনে প্রচার হতো না। মাইকে এ ভাষণ বাজানোর অপরাধে অনেককেই নিগৃহীত হতে হয়েছিল।