Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:৪২ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২০শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

বিএনপি জোট ইমাম-পুরোহিত-পাদ্রি-শিক্ষকসহ নিরীহ মানুষ হত্যা করছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্যই পরিকল্পিতভাবে গুপ্ত হত্যা সংঘটিত করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা এবং সরকার, দেশ ও জনগণের সম্পদ ধ্বংস করে সরকার উৎখাতে ব্যর্থ বিএনপি-জামায়াত জোট গুপ্ত হত্যাকান্ড সংঘটিত করে দেশকে অস্থিতিশীল এবং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ বিকেলে স্থানীয় ইম্পেরিয়াল হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এম আক্তারুজ্জামান এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষে সাকুরা সাবের এবং সালেহ মোহাম্মদ আরিফ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

এর আগে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিট এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট এখন ধরে ধরে মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, গীর্জার পাদ্রি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ নিরীহ সাধারণ মানুষ হত্যা করে চলেছে। তাদের উদ্দেশ্য শুধু দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করে আদালতের রায় কার্যকর হতে না দেয়াও তাদের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য।

সাম্প্রতিকালের ভয়াবহ জোড়া খুনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাবার অপচেষ্টায় রাজধানীর কলাবাগানে ইউএসএআইডি কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান এবং তার এক বন্ধুকে খুন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াত অপশক্তির ৫ জানুয়ারি নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তি সময় এবং ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসের সীমাহীন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রসংগ উল্লেখ করে বলেন, দেশ যখন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই বিএনপি-জামায়াত দেশে ধ্বংসাত্মক রাজনীতির সূচনা করে।

তিনি বলেন, তাদের (বিএনপি-জামায়াত) কর্মসূচি দেখে মনে হচ্ছিল, যেন মানুষ পুড়িয়ে মারার উৎসব চলছে।

তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন,‘আসলে কিসের আন্দোলন ছিল তার (খালেদা জিয়ার)?.. শুধুই মানুষ পুড়িয়ে হত্যা,পুড়িয়ে হত্যার মহোৎসব..তাদের আন্দোলন মানে ছিল শুধুই রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা। যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে মিলেই তারা এই অপকর্ম ঘটিয়েছে।’

সে সময়কার বিএনপি’র নেত্রীর রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম জিয়া সে সময় ঘোষণা দিয়েছিলেন যে,সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবেন না। কিন্তুু বেগম জিয়া শেষ পর্যন্ত আদালতে আত্মসমর্পণে বাধ্য হন এবং মাটিতে নাক ঘঁষে ঘরে ফিরে যান।

দেশে যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যাক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার দাবি সমগ্র জাতির। আর এর মাধ্যমেই সমগ্র দেশ দীর্ঘ ৪৫ বছরের কালিমা দূর করতে পারে।

সমগ্র বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি এখন অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশকে এখন সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখা হয়।

তিনি প্রবাসী বাংলদেশীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রত্যেক প্রবাসী বাংলাদেশীই তাঁর দেশের এক একজন রাষ্ট্রদূত, কাজেই তাদের এক্ষেত্রে অনেক দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রবাসে আন্তরিকতার সঙ্গে কর্তব্য সম্পাদনের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, দেখবেন আমাদের যেন বদনাম না হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান বরাবরই বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘দেশের উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবদান আমরা সবসময়ই স্মরণ করি।’

দেশে প্রস্তাবিত নতুন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে জাপানি সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এছাড়াও জাপানি উদ্যোক্তদের বিনিয়োগের জন্য ঢাকার আশপাশে ৫শ’ একর জমি বরাদ্দের প্রসংগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (জাপানি ব্যবসায়ীরা) সেখানে বিনিয়োগ করবে এবং নিজস্ব শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে সরকারের উদ্যোগের কথাও এ সময় উল্লেখ করেন।

দেশে আরো বেশি বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য সারাদেশে একশ’টি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সরকারি উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সমস্ত কারখানার কাঁচামাল যে অঞ্চলে সহজলভ্য সে অঞ্চলে সেই ধরনেরই শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রসংগ উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি-জামায়তের তীব্র বাধার মুখেও দেশের জনগণ তাঁকে এবং তাঁর দলকে নির্বাচিত করে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

কাজেই তিনি দেশের প্রয়োজনে যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছেন উল্লেখ করে দেশবাসীর দোয়া কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বিগত সাড়ে সাত বছরে সরকার পরিচালনার বিভিন্ন সাফল্য এবং কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, দারিদ্র বিমোচন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতে দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ভারত এবং মায়ানমারের সঙ্গে আইনী লড়াই করে সমুদ্র সীমা জয়ে তাঁর সাফল্যের তথ্য তুলে ধরে বলেন, এই বিশাল সমুদ্রসীমার সম্পদকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও জাপান বাংলাদেশকে সহযোাগিতায় এগিয়ে আসতে পারে। একইসঙ্গে অন্যরাও এক্ষেত্রে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে।