ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:২৯ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মাহবুব-উল-আলম হানিফ
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, ফাইল ফটো

বিএনপি-জামায়াত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত : হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে না জড়িয়ে হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

তিনি আজ বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ীঘর ও উপাসনালয়ে হামলার বিষয়ে বিএনপির করা মন্তব্যের জবাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহবান জানান।

মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন,  পেট্রোলবোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে এবং বিদেশী নাগরিকদের হত্যা করে সরকার পতনে ব্যর্থ হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দিয়ে হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করতে হবে।’

এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, একেএম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন নাহার লাইলী, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন উপস্থিত ছিলেন।

মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, সদ্য সমাপ্ত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে বিদেশী অতিথিরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এবং দেশের উন্নয়নের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। আর এটাই আওয়ামী লীগের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত দেশের মানুষের ওপর আস্থা হারিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। আর সেই ষড়যন্ত্রের ফসল হলো নাসিরনগরের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে এবং মন্দিরে হামলা।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের বহিষ্কারের মাধ্যমে প্রমাণ হয় হামলার সাথে আওয়ামী লীগ জড়িত বিএনপি নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমেদের এমন দাবির জবাবে হানিফ বলেন, বিএনপি নেতা হাফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে নাসিরনগরে বিএনপির প্রতিনিধি দল পাঠানো দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাথে পরিহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি বলেন, কেননা হাফিজ উদ্দিনের নির্বাচনী এলাকা ভোলার তজুমুদ্দিনে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে হামলা হয়েছিল তা দেশের মানুষ কখনো ভুলে যাবে না।

তিনি বলেন, শুধু মাত্র নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার অপরাধে ১৯৯২ সালে তজুমুদ্দিনের দাসেরহাট বাজারে টানা ২৮ দিন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দোকান-পাট, বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছিল। ভোলার চরফ্যাশনে ২০০১ সালের নির্বাচনের পর দু’শ সংখ্যালঘু নারীকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল।

হানিফ এ সময় বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার নানা চিত্র তুলে ধরে বলেন, বিএনপি সরকারের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার সময় কখনো হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাড়ায়নি।

তিনি এসময় সিরাজগঞ্জের পূর্ণিমা শীলের ওপর বিএনপি-জামায়াতের পাশবিক অত্যাচারের কথা তুলে ধরেন।

এক প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটায় তারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের দলীয় কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ টানা দু’বার ক্ষমতায় আসার পর দেশকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছে। ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সফল রাষ্ট্রের তালিকায় নিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। যা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামায়াত ও বিএনপির মাথা নষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাই তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ঠ করার ঘৃণ্য কৌশল বেছে নিয়েছে।