Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:২৪ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘একরামকে হত্যা করেছে আ.লীগের লোকেরাই’:সাংসদ রহিম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র) ও জেদ্দা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী রহিম উল্ল্যাহ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার ‘মা’, মায়ের মতো। তার কথার বাইরে আমি এক কদমও যাব না।’ তিনি আরও বলেন, যদি একরামকে বিএনপি-জামায়াত হত্যা করতো তাহলে আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ করেনি কেন?  আওয়ামী লীগের লোকেরাই একরামকে হত্যা করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জবানবন্দিতে তাদের নাম এসেছে।’ আজ বুধবার বিকেলে একটি অনলাইন পত্রিকাকে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

হাজী রহিম উল্ল্যাহ বলেন, ‘আমি যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থী হই তা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই হয়েছি। আমার নামে পুরো ফেনী জেলা লিখি দিলেও আমি প্রার্থী হতাম না। আমি সুন্দরভাবে নির্বাচিত হয়েছি। নির্বাচনের সময় আমার আসনে একটা ককটেলও বিস্ফোরণ হয়নি। আমি যদি যোগ্য না হতাম তাহলে আমাকে অবাঞ্ছিত করা লাগতো না। আমি নিজেই অবাঞ্ছিত হয়ে যেতাম।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি ফেনী এসেছি। এখন থেকে স্থায়ীভাবে এখানেই অবস্থান করবো। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী আমার কিছু করতে পারবে না। আমি তাকে ভয় পাই না।’

হাজী রহিম উল্ল্যাহ বলেন, ‘ভয় করলে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা যাবে না। মৃত্যুকেও আমি ভয় পাই না। ঢাকা থেকে ফেনী পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ।’

গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় ফেনী সার্কিট হাউজে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে অস্ত্র উঁচিয়ে এমপি রহিম উল্যাহকে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন জেলা যুবলীগের নেতারা। ঘটনার পর রাতেই ফেনী ছেড়ে ঢাকায় চলে যান তিনি। গত মঙ্গলবার পুলিশ-র্যা বের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসেন।

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর সমালোচনা করে লাঞ্ছিত এই এমপি বলেন, ‘নিজাম হাজারীর রাজনৈতিক জ্ঞানের অভাব রয়েছে। তিনি কীভাবে আমার এলাকায় উন্নয়ন করবেন বলে ঘোষণা দেন। আমি প্রবাসে রাজনীতি করি। আমি ফেনীবাসীর গর্ব।’

তিনি বলেন, ‘যারা প্রতিবাদ করবে তারা কষ্ট স্বীকার করবে। পরবর্তীতে তারাই লাভবান হবে। প্রধানমন্ত্রী ত্যাগীদের মূল্যায়ন করেন। এখনও বহু মন্ত্রী-এমপি লাঠি ভর দিয়ে সংসদে যান। ত্যাগের কারণে প্রধানমন্ত্রী তাদের মূল্যায়ন করছেন।’

একরাম হত্যাকাণ্ডে নিজাম হাজারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে ইঙ্গিত করে রহিম উল্ল্যাহ বলেন, ‘একরাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগ জড়িত। নিজাম হাজারীর নামে ঢাকাতে পোস্টার ফেস্টুন ছাপানো হয়েছে। যুবলীগের যারা আমার ওপর হামলা করেছে তারা নিজাম হাজারীর নির্দেশে করেছে।’

তিনি বলেন, ‘যেখানে শতভাগ নিরাপত্তার জায়গা সেখানে আজ নিরাপত্তা নেই। ফেনী সার্কিট হাউজের মতো জায়গায় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে আমি লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হয়েছি। যারা আমার ওপর হামলা করেছে তারা ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামকে হত্যা করেছে। যদি একরামকে বিএনপি-জামায়াত হত্যা করতো তাহলে আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ করেনি কেন? আওয়ামী লীগের লোকেরাই একরামকে হত্যা করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জবানবন্দিতে তাদের নাম এসেছে।’

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেলে এমপি রহিম উল্যাহর আসার খবরে ফেনীর লালপুল ও সোনাগাজী জিরো পয়েন্টে তার গাড়ি বহরে ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা দুটি মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

এছাড়া মঙ্গলবার দুপুর থেকে ফেনী-সোনাগাজী সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্র ও লাঠিসোটা হাতে মহড়াও দেয়।  সূত্রঃ বাংলামেইল