ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:২৪ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বিএনপি-জামায়াত গণহত্যা চালাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত চক্র তথাকথিত আন্দোলনের নামে দেশে গণহত্যা চালাচ্ছে। কারো পক্ষেই তাদের এ ধরনের নৃশংসতা মেনে নেয়া সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ হত্যা করছে। তারা খুনের দায় এড়াতে পারে না। মূলত তারা গণহত্যা চালাচ্ছে। তাদের এই নৃশংসতা কেউ মেনে নিতে পারে না। এ ধরনের নির্মম কর্মকা- বন্ধ করতে আল্লাহ তাদের সুমতি দিন।’
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা আন্দোলনের নামে দেশব্যাপী ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। মানুষ তাদের এই ধ্বংসাত্মক কর্মসূচিতে সাড়া দেয়নি। এ জন্য তারা পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার কৌশল নিয়েছে।
শেখ হাসিনা আজ সকালে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী বিষয়ক ৪র্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণকালে একথা বলেন।
দ্য সোসাইটি অব প্লাস্টিক সার্জনস বাংলাদেশ (এসপিএসবি) ৪ দিনের এই সম্মেলনের আয়োজন করছে।
এতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে এসপিএসবি সভাপতি ডা. সামন্ত লাল সেন, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, এসপিএসবি মহাসচিব ডা. মো. আবুল কালাম, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অঞ্জন কুমার দেব বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন এক সময়ে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে যখন একটি রাজনৈতিক জোট নিজেদের হীনস্বার্থ উদ্ধারে নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মারছে। তাদের পেট্রোল বোমা সন্ত্রাসের হাত থেকে শিশু, বৃদ্ধ এমনকি অন্তস্বত্তা মাও রেহাই পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত সৃষ্ট এই ভীতিকর পরিস্থিতি খুবই অমানবিক। একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে পুড়িয়ে মারছে এটা চিন্তা করা যায় না। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত চক্র এই অপরাধই করে চলছে। তাদের পেট্রোল বোমা সন্ত্রাসে এ পর্যন্ত একশ’র বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং কয়েকশ’ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে মৃত্যু যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, অতীতেও এ দেশে আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। কিন্তু তা হয়েছে জনগণের কল্যাণের জন্য।
তিনি বলেন, রাজনীতি হচ্ছে মানুষের জন্য। রাজনীতির লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের সমস্যা সমাধান করে তাদের সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা। তিনি প্রশ্ন করেন যে, এভাবে মানুষ হত্যা করা হলে জনকল্যাণের রাজনীতির লক্ষ্য অর্জিত হবে কিভাবে?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট অবরোধের সঙ্গে হরতালও দিচ্ছে। এটা যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’।
তিনি বলেন, মানুষ যখন সুখ-শান্তিতে বাস করছে এবং তারা উন্নত ও সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখছে, সে সময় বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে দেশব্যাপী অরাজকতা সৃষ্টি করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেয়ার কোন যুক্তি নেই। সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ হলে তখন তাদের আন্দোলনে যুক্তিযুক্ত হতো।
তিনি বলেন, জনগণের জন্য নয়- বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন হচ্ছে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত স্বার্থে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ কেন কোন ব্যক্তি বা দলের ভুলের মাশুল দেবে। তারা আগামী প্রজন্মের জীবন ধ্বংস করতে এই আন্দোলন করছে।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের তথাকথিত আন্দোলনে ১৫ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত হুমকির মুখে পড়েছে। মানুষের প্রতি বিএনপি নেত্রীর ন্যূনতম দরদ ও ভালবাসা থাকলে তিনি এমন ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দিতে পারতেন না।
বিএনপি-জামায়াতের পেট্রোল বোমায় নিহতদের আত্মীয়স্বজন ও আহতদের সমবেদনা জানানোর ভাষা তাঁর নেই একথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা মারা গেছেন বা আহত হয়েছেন তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। তবুও আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং নিহতদের পরিবার ও আহতদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে কিছুটা হলেও তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে স্বাধীনতার পরপরই দেশে প্লাস্টিক সার্জারির যাত্রা শুরু হয়েছিল। জাতির পিতা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থোপেডিক সার্জন ডা. আর জে গাস্ট ও ভারতীয় প্লাস্টিক সার্জন ডা. পি বেজলীলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। কিন্তু সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার পর চিকিৎসা শাস্ত্রের উন্নয়নে পরবর্তী সরকারগুলো কোন উদ্যোগ নেয়নি। যদিও এই সময়ের মধ্যে দেশব্যাপী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ রোগীর সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে।
তিনি বলেন, তাঁর প্রথম সরকারের মেয়াদে দেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট প্রথম বার্ণ ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়, যা তাঁর দ্বিতীয় সরকারের মেয়াদে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ইতোমধ্যে এই ইউনিটকে ৩০০ শয্যার জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারী ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই ইনস্টিটিউট পরিপূর্ণভাবে চালু হলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ ও জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সরকার বার্ণ ইউনিটের জন্য রাজস্ব খাতে ১৫৬টি পদ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি সরকারি ১৪টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নিটোর ও ক্যান্সার ইনস্টিটিউটসহ ১৬টি প্রতিষ্ঠানে বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগ চালু করা হয়েছে।
সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভাগীয় হাসপাতালে বার্ণ ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যন্ত তা সম্প্রসারিত হবে। সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রোল বোমা হামলায় বার্ণ ইউনিটে অগ্নিদগ্ধ আহতদের জীবন রক্ষায় চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ও জাতির পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।