শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:৫১ ঢাকা, শুক্রবার  ১৪ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ফাইল ফটো

বিএনপি গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনে কেন্দ্র পাহারা দেয়ার কথা বলে বিএনপি সংঘাতে উস্কানী ও গৃহযুদ্ধের হুমকী দিচ্ছে।

তিনি আজ সকালে রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে এসথেটিকা ডারমাটোলজিস্টদের আন্তর্জাতিক এক সেমিনারের আগে নির্বাচনে বিএনপির ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার ঘোষণা সম্পর্কিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।

বিএনপির আন্দোলনের হুমকীকে কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গত দশ বছরে বিএনপির আন্দোলনের সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ তো দুরের কথা, কোথাও একটা ছোট ঢেউও দেখলাম না। ফখরুল সাহেবরা স্বপ্ন দেখতেই পারেন। কারণ, জনগণের ওপর যদি তাদের আস্থা থাকে তাহলে তারা কিভাবে অবিরাম আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলছেন?’

তিনি বলেন, ‘তারা গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে, কারণ কেন্দ্রে কেন্দ্রে তিনশ’ থেকে পাঁচশ’ লোক পাহারা দেয়ার অর্থ কি? আমরাও যদি কেন্দ্রে এত লোক ব্যবস্থা করি, তাহলে কি অবস্থাটা হবে? তখন আর ভোট হবে না, গৃহযুদ্ধ হবে? ভোট হবে না, ভায়োলেন্স হবে?’

কাদের আরো বলেন, বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট যেভাবে ভাষায় কথা বলছে, সেটা কিন্তু সংঘাতের উস্কানি হচ্ছে। যা নির্বাচনের বর্তমান সুষ্ঠু পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে, নষ্ট করবে এবং তারা কেন্দ্রে পাহারাদার নিয়োগের নামে গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে, এটা সহ্য করা যায় না।’

সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, ‘আমি প্রশ্ন রাখতে চাই, অবিরাম তারা এগ্রেসিভ ভাষায়, আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলছে। নির্বাচন গণতন্ত্র তাদের ভাষায় নেই। আজকে দেশের জনগণ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়। বিএনপি আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করে নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশকে নষ্ট করছে। এটাই আমার প্রশ্ন কেন তারা এমন করছে?’

নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে বিএনপির এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘এটা ইসিকে জিজ্ঞেস করুন। আমার দৃষ্টিতে কোন পক্ষপাত মূলক আচরণ পাচ্ছি না বরং আমরা কিছু অভিযোগ করেছি তারা বলেছেন সেগুলো আরপিও কাভার করে না। আমাদের অনেক ধৈর্য্য ধরতে হবে। আমরা আচরণে ধৈর্য্যরে পরিচয় দেব।’

হয়রানীমূলক মামলায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে কাদের বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যদি পল্টনে ‘জগায় মাথার ওপর নৃত্য করতে করতে’ পুলিশের গাড়ির ওপর চড়াও হয়। পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে ফেলে, পুলিশের ওপর হামলা করে। তারা কি নিরপরাধ? তারা যদি প্রার্থীও হয়, তাহলে কি ক্ষমা করা যাবে?’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব বিএনপির কাছে যাচ্ছে বলে করা এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আমরা তো আগেই বলেছি, এখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কোন বিষয় নয়। ঐক্যফ্রন্ট জাস্ট একটা এলায়েন্সের অবয়ব। যেহেতু তাদেও নেত্রী-নেতা দন্ডিত। তাদেও চেয়ারপার্সন কারাগারে, এই অবস্থায় কামাল হোসেনকে তারা ব্যবহার করছে এবং আরও কিছু কিছু নিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, আজকে এই ঐক্যফ্রন্টের চালিকাশক্তি হচ্ছে বিএনপি এবং এই ঐক্যফ্রন্টের সকল কর্মকান্ডের নির্দেশনা আসছে লন্ডন থেকে। লন্ডন থেকে তারেক রহমান যে নির্দেশ দিচ্ছেন তার আঙ্গুলির হেলনে আজকে ঐক্যফ্রন্ট চলছে, এটা হল বাস্তবতা।
তিনি আরো বলেন, ঐক্যফ্রন্টে অন্যান্য যারা আছে তারা দিনে দিনে আরও পরিস্কার হবেন যে, তাদের কানা-কড়িরও দাম নেই। তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

জরিপের চেয়ে প্রশাসনে গুরুত্ব রাখতে পারে এমন ব্যক্তিদের আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দিচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে এ বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কাদের বলেন, কে বলেছে? এটা পুরোপুরি ভুল। আমরা সম্পূর্ণ ভাবে জরিপ রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই মনোনয়ন দিচ্ছি। এখানে কোন আপোষ করে লাভ নেই। জনগণ চায় না এমন প্রার্থীকে কেন আমরা মনোনয়ন দেব, পরাজিত হওয়ার ভয় আছে না।

জামাতে ইসলামী স্বতন্ত্রের নামে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রার্থী হচ্ছে-এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘জামাতে ইসলাম বিএনপির জোটে আছে। বিএনপির এই জানের-জান দোস্তকে কখনও হারাতে চায় না। কখনও এই বন্ধুত্বে ফাটল ধরবে না। কারণ, তদের অবস্থা এমন যে জামাতের শক্তির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে হলে জামাতের সেই জঙ্গি শক্তিটা দরকার আছে। তাদের ছাড়বে না এটাই স্বাভাবিক। বিএনপি ক্রমেই তাদেও নেতিবাচক রাজনীতির কারণে শক্তিহীন হচ্ছে। এই শক্তিটা প্রদর্শনের জন্য তাদের জামাতকে দরকার।