ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:৫৩ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মাহবুব-উল-আলম হানিফ
মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ফাইল ফটো

বিএনপি কর্মসূচীর নামে সন্ত্রাস ও নাশকতা করলে কঠোর জবাব পাবে : হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, আগামীকাল বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে কোন ধরনের সন্ত্রাস ও নাশকতা করলে জনগণকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগ তার কঠোর জবাব দেবে।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত গণতন্ত্র হত্যার জন্য অনেক নাশকতা ও সন্ত্রাস করেছে। জনগণ তার সমুচিত জবাব দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, আগামীকাল বিএনপি কোন ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে চায়, দেশের জনগণ তা দেখতে চায়।
মাহবুব-উল আলম হানিফ আজ বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ে গণতন্ত্রের বিজয় উপলক্ষে আগামীকালের আওয়ামী লীগের সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, শেখ বজলুর রহমান, মুকুল চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সেলিম এমপি ও মো. আওলাদ হোসেন।
মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, জামায়াতের শীর্ষ স্থানীয় এক নেতা প্রায় দেড় কোটি টাকাসহ গতকাল গ্রেফতার হয়েছে। আর টাকাসহ জামায়াত নেতা গ্রেফতারের মাধ্যমে প্রমান হয় বিএনপি-জামায়াত ৫ জানুয়ারীকে কেন্দ্র করে দেশে আবারো সন্ত্রাস ও নাশকতা করতে চায়।
আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ আগামীকাল ১৮ টি স্থানে জনসভা করার কর্মসূচী ঘোষণা করেছিল। এতে মহানগরীতে ব্যাপক যানজটের তৈরি হতে পারে বলে দুটি স্থানে জনসভা করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশ(ডিএমপি)’র পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে অনুরোধ জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ডিএমপির সে অনুরোধের প্রেক্ষিতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এবং ধানমন্ডির রাসেল স্কয়ারে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। বেলা আড়াইটা থেকে এ সমাবেশ শুরু হবে।
হানিফ বলেন, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সমাবেশে এবং উত্তরের নেতা-কর্মীরা রাসেল স্কয়ারের সমাবেশে যোগদান করবে। আর ৫ জানুয়ারী গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হওয়ায় প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নিয়ে সমাবেশে অংশ গ্রহন করতে হবে।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আওয়ামী লীগের সমাবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারী গণতন্ত্রেও বিজয় দিবস পালন করার জন্য ডিএমপির কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি একই স্থানে জনসভা করার অনুমতি চাওয়ায় কাউকেও এ স্থানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয় নি।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নেওয়ায় এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অধিকার নেই বেগম খালেদা জিয়ার। কেননা এ উদ্যানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন দিয়েছিলেন এবং পাক হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল।
এ স্থানে যেন বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া না হয় সেজন্য ডিএমপির প্রতি আহবানও জানান হানিফ।
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র রক্ষা পেয়েছে। কেননা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হলে অশুভ শক্তি ক্ষমতায় আসত।
তিনি বলেন, আর তাই দেশের জনগন সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে দেশের মানুষ বিএনপি জামাতকে প্রত্যাখান করেছে।
এডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ভালো ভালো কথা বললেও বিএনপির আন্দোলন করার মতো ক্ষমতা নেই। কারণ বেগম খালেদা জিয়ার শিরদাড়ায় যেমন শক্তি নেই তেমনি বিএনপির শিরদাড়াতেও কোন শক্তি নাই।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি পাকিস্তানের ভাবধারায় বিশ্বাস করে এবং আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। তাই দেশের জনগন বিএনপির সাথে নেই।