শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:৪১ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রী এ ভাবেই ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে শেখ কামাল ও শেখ জামাল সেতুর উদ্বোধন করবেন। ফাইল ফটো

বিএনপি ও জামায়াত জানমালের বর্ণনাতীত ক্ষতি ও ধ্বংস সাধন করেছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথাকথিত আন্দোলনের নামে বিগত জানুয়ারি থেকে ৩ মাসের জ্বালাও-পোড়াও এবং অগ্নি সন্ত্রাসের তীব্র সমালোচনা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত চক্র ওই সময় বাস, রেল ও লঞ্চ জ্বালিয়ে না দিলে ঈদের ছুটিতে দেশের মানুষ আরো স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারতেন।
প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনকালে বলেন, ৩ মাসে বিএনপি ও জামায়াত জনগণের জানমালের যে পরিমাণ ক্ষতি ও ধ্বংস সাধন করেছে তা বর্ণনাতীত।
উদ্বোধনকৃত এ ৭ উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে- বান্দরবানে থানচি-আলী কদম সড়ক, রংপুর বিভাগীয় সড়কের ১৬ কিলোমিটার ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ঢাকায় বিরলিয়া-আশুলিয়া হাইওয়ে, বিরলিয়া সেতু এবং রাষ্ট্রীয় খাতে নির্মিত যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মধুমতি ও দু’টি নতুন ফেরি।
গণভবনে এ অনুষ্ঠানে সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সেনাবাহিনী প্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব এইচটি ইমাম, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা ও জাতীয় সম্পদ ধ্বংসের মতো এমন নৃশংসতা আর কখনো দেখেন নাই।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত চক্র ২ হাজার বাস ধ্বংস করেছে এবং রেলগাড়ি জ্বালিয়েছে ও রেল লাইন উপড়ে ফেলেছে। তাদের আগুন সন্ত্রাস থেকে লঞ্চও রেহাই পায়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষেই এ ধরনের নৃশংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সম্ভব।
বাংলাদেশ যাতে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হতে পারে এ লক্ষ্যে তিনি বাজেট ও অন্যান্য প্রকল্প আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু এতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা উচ্চ আয়ের দেশে উন্নীত হবো। এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সকলকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির লক্ষ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি এসব প্রকল্প যথাযথ বাস্তবায়নে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে দেমের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশবাসীও উপকৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রী আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সাফল্যের উল্লেখ করে বলেন, সরকার শিক্ষা বিস্তারে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চারলেনে উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সারাদেশে বিপুল সংখ্যক সড়ক ও সেতু নির্মিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী সড়ক ও মহাসড়কগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সড়কে অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক যাতে চলাচল করতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের কার্যকর পদক্ষেপে শিপিং সেক্টর নতুন জীবন পেয়েছে। তিনি এই খাতে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য নৌমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ খাতের আরো উন্নয়নে নতুন জাহাজ ও স্টিমার চালু করতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, নতুন জাহাজ এমভি মধুমতি এবং দু’টি ফেরি শহীদ ড. গোলাম মাওলা ফেরি এবং কে টাইপ ফেরি ‘কুসুম কলি’ চালু হওয়ায় ঈদে ঘরমুখো মানুষ সহজে বাড়ি যেতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় থানচি-আলিকদম মহাসড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। এজন্য তিনি তাদেরকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এই প্রকল্পে সম্পৃক্ত করা না হলে এই মহাসড়কটি নির্মাণ করা সম্ভব হতো না। প্রত্যন্ত উঁচু ভূমি ও পাহাড়ি এলাকায় এই মহাসড়কটি নির্মিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। তিনি স্থানীয় পণ্য পরিবহনে এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে থানচি-আলিকদম মহাসড়ক খুবই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পরই তার সরকার অঞ্চলের সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করে। অথচ বিএনপি-জামায়াত জোট এই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের বিরোধিতা এবং হরতাল ডেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার আওয়ামী লীগ সরকার গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো চালু রাখেনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়ন কাজ শুরু করে। প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রংপুরের মেয়র ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, নগরীতে চার লেনের সড়ক নির্মাণে যান চলাচল সহজ হবে এবং এতে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, রংপুর দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। বর্তমান সরকার রংপুরকে বিভাগে উন্নীত এবং দারিদ্র্য ও মঙ্গাপীড়িত জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি তিস্তা ও ধরলা সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উল্লেখ করে বলেন, সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এবং কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊ শৈ সিং বান্দরবান থেকে যোগ দেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু রংপুর থেকে বক্তব্য রাখেন।
জাতীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা এবং এম এনামুর রহমান ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন।
সড়ক ও মহাসড়ক অধিদফতর ১২৬.৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে রংপুরে চারলেনের সড়ক প্রকল্প এবং বিরুলিয়া-আশুলিয়া এবং বিরুলিয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্প প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ ১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে থানচি-আলিকদম সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ২৬.৫৮ মিটার দীর্ঘ ও ১২.৫০ মিটার প্রশস্ত এমভি মধুমতি জাহাজ নির্মাণ করেছে। জাহাজটি ৭৫০ জন যাত্রী পরিবহনে সক্ষম।