ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:৩৮ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফাইল ফটো

বিএনপির সরকারের চিন্তাভাবনাই ছিল খাদ্য ঘাটতি রাখা : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের চিন্তাভাবনাই ছিল দেশে খাদ্য ঘাটতি রাখা। কারণ, খাদ্য ঘাটতি থাকলে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মংলায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন শস্য ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্য গুদাম (সাইলো) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করণ, দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য সংরক্ষণ ও আপদকালীন খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলার জন্য খাদ্যশস্য মজুদ সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা খাদ্য গুদামজাত করার জন্য সাইলো উদ্বোধন করছি। এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই অর্জন আমাদের চিন্তাভাবনার কারণেই সম্ভব হয়েছে। আমরা শুধু খাদ্য উৎপাদনই করবো না খাদ্যকে সংরক্ষণও করবো যেন আপদকালে আমার তার ব্যবহার করতে পারি এবং এজন্য অন্যের কাছে হাত পাততে না হয়।

তিনি বলেন, আমাদের চিন্তাভাবনা হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ অন্যের কাছে হাত পাতবে না। আমরা ভাবি, নিজেরা কীভাবে দেশের মানুষকে খাদ্যের নিরাপত্তা দেবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণকালে সরকারি পর্যায়ে দেশে খাদ্যশস্যের মোট ধারণ ক্ষমতা ছিল মাত্র ১৪ লক্ষ মেট্রিক টন। বর্তমানে এ ধারণ ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২০ লক্ষ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। ২০২১ সালের মধ্যে খাদ্যশস্য ধারণ ক্ষমতা ৩০ লক্ষ মে. টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির চিন্তাভাবনা ছিল, যদি দেশে ঘাটতি থাকে তাহলে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যাবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের মানুষ ভিক্ষা করে যাবে, আর আমি ভিক্ষুকের সরদার হয়ে বসে থাকবো, তার জন্য ক্ষমতায় আসিনি। আমরা নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে চলবো।

তিনি দেশের খাদ্য ও কৃষিখাতের উন্নয়নে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তুলে ধরেন কৃষক ও বর্গাচাষিদের দেওয়া নানা সুযোগ ও প্রণোদনার কথাও।

প্রধানমন্ত্রী তাদের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সরকারের সফলতার কথা তুলে ধরে বলেন, বিএনপি’র খাদ্য ঘাটতি পুষিয়ে আমরা ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর ৫ বছরে দেশে খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে যাই। খাদ্য ঘাটতি রাখার চিন্তাভাবনা যাদের, সেই বিএনপি-জামাত জোট সরকার এই উদ্বৃত্ত অবস্থা থেকে আবারো দেশকে খাদ্য ঘাটতিতে নামিয়ে আনে। আমরা ২০০৮ সালে ফের ক্ষমতায় এসে দেখলাম দেশে আবারও খাদ্য ঘাটতি। সেই অবস্থার বদল করেছি আবার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ক্ষমতায় আসার পর দেখলাম চট্ট্রগ্রামে আমাদের যে খাদ্যগুদামগুলো ছিল সব নষ্ট ও বেদখল হয়ে গেছে। শুধু জাপান সরকার মুক্তিযুদ্ধের পর ৫০টি খাদ্য গুদাম করে দিয়েছিল। সেখানে একটি নিষেধাজ্ঞা দেয়া ছিল ৫০ বছরে এগুলো ভাংতে পারবে না। শুধু সেগুলোই বাকী ছিল আর অন্যসব খাদ্যগুদাম বিএনপি-জামাত সরকার ভেঙ্গে ফেলেছিল। শুধু ভাঙ্গেনি, ১ টাকায় বিএনপি নেত্রীর এক আত্মীয়ের জুতা কোম্পানীকে লীজ দেয় এবং প্লট করে ইপিজেডের জন্য জায়গাগুলো বরাদ্দ দিয়ে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকারে আসার পরে দেখলাম এটাতো আমাদের জন্য একটা সর্বনাশা সিদ্ধান্ত। আমি এসব জায়গা পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ গ্রহণ করলাম। ৬ কোটি টাকা খেসারত দিয়ে সেই জায়গা উদ্ধার করলাম।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের যিনি স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন, সেই মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাঙালি জাতি নিজে মাথা উঁচু করে চলবে। তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেই আওয়ামী লীগ কাজ করছে। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের নজির আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই প্রকল্পের উদ্বোধন।

নবনির্মিত সাইলোর ওপর অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

মংলা বন্দর থেকে ১৭ কিঃ মিঃ ভাটিতে জয়মনিরঘোল নামক স্থানে মোট ৪২ একর জমিতে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই সাইলো নির্মাণ করা হয়েছে।

এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় আরও ৭.১৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার আধুনিক খাদ্যগুদাম ও সাইলো নির্মাণ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

বগুড়া জেলার সান্তাহারে ২৫,০০০ মে. টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মাল্টিস্টোরিড ওয়্যারহাউজ (৩৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনসহ) নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই দুটি প্রকল্পের আওতায় আধুনিক সুবিধা সম্বলিত কনক্রিট গ্রেইন সাইলো এবং মাল্টিস্টোরিড ওয়্যারহাউজ নির্মিত হওয়ায় সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্যের ধারণ ক্ষমতা ২১.১৫ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় পাঁচ হাজার বর্গমিটার পরিসরের একটি জেটি নির্মিত হয়েছে। জেটির মাধ্যমে সরাসরি জাহাজ থেকে সাইলোতে গম খালাস করার জন্য বেলজিয়ামের ‘ভিগান’ কোম্পানির সরবরাহকৃত দুটি নিউমেটিক আনলোডার স্থাপন করা হয়েছে। আনলোডার দুটি দ্বারা ঘণ্টায় ৪০০ মেট্রিক টন গম খালাস করা যাবে।