ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:২৪ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মাহবুব-উল-আলম হানিফ
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ফাইল ফটো

“বিএনপির সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখান”

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি বিএনপির সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে বলেছেন, কোন সংলাপে বসার আগে দেশের নিরীহ মানুষকে হত্যা করার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে কোন সংকট নেই। প্রত্যাশার চেয়ে দেশ দ্রুত গতিতে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর দেশের মানুষের আস্থা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, সংকট রয়েছে পাকিস্তানী ভাবাদর্শে বিশ্বাসী বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে। তার ব্যক্তিগত সংকটের কারণে কোন সংলাপ হতে পারে না।
মাহবুব-উল আলম হানিফ আজ দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কার্যালয়ে আগামী ১০ জানুয়ারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের সকল কর্মসূচীকে সফল করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সকল সংগঠনের এক যৌথ সভা শেষে এ কথা বলেন।
মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিকে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সে প্রস্তাবে কোন সাড়া দেননি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর কোকোর লাশ দেখার এবং বেগম খালেদা জিয়াকে শান্তÍনা জানানোর জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা পর্যন্ত করেন নি।
হানিফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া একটি নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করার জন্য দেশের মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে ১৪৭ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছেন। তিনি সংলাপের কথা বলেছেন, কিন্তু দেশের মানুষকে হত্যা করার জন্য নিহতদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাননি। তাই একজন খুনীর সাথে আওয়ামী লীগের কোন সংলাপ হতে পারে না।
১০ জানুয়ারী আওয়ামী লীগের কর্মসূচী সম্পর্কে বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রর্তাবর্তন দিবস ব্যাপক জাকজমকপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করবে। কেননা ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করলেও বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দেশের জনগণ প্রকৃত বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করেছিল।
হানিফ বলেন, এ উপলক্ষে ১০ জানুয়ারী সকাল ১০ টায় আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে।
তিনি বলেন, তবে বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাত ১০ জানুয়ারীতে হওয়ায় পরের দিন ১১ জানুয়ারী শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেলা আড়াইটায় আওয়ামী লীগের জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
এ সময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারন সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে এ যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি।
উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং ভারতের নয়াদিল্লী হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী দেশে ফিরে আসেন।
এদিন পুরো জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে আপন ভালোবাসায় বরণ করে নেয়। তেজগাঁওয়ের পুরান বিমান বন্দর থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত তৈরি হয় জনসমুদ্র।