ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৫৬ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘বিএনপির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা সরকারের নার্ভাস নেসের অংশ’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মাহমুদুর রহমান ও শফিক রেহমান এর পাশাপাশি বিএনপির বিরুদ্ধে জয় অপহরন ও হত্যা চেষ্টার পরিকল্পনার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এটা সরকারের নার্ভাস নেসের অংশ।

তিনি বলেন, সরকারের দুর্নীতি, দমননীতি, তনু হত্যা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রির্জাভ চুরির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিশিষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমান, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও সাংবাদিক শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে ন্য্যাশনাল পিপলস পার্টি ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকার যখনই বড় কুকীর্তির ঘটনা ঘটায় ঠিক তখনই ওটাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আরেকটি বড় ঘটনা ঘটায়। তনু হত্যা ও রির্জাব চুরির ঘটনা ধামাচাপার জন্যই শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করেছে সরকার। এর আগে বিডিআর হত্যা, শেয়ার বাজার ধ্বংস, ডেসটিনি দুর্নীতি , ব্যাংক লুট সর্বশেষ তনু হত্যা ব্যাংকের রির্জাভ চুরি ও ঘটনা ঘটিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, শফিক রেহমানের মামলা সর্ম্পকে সরকারের পুলিশ ও সরকার প্রধান যেটা জানিয়েছেন তাতে অভিযোগ অত্যান্ত গুরুতর। আমরা যতদূর জেনেছি তাতে জয় অপহরন ও হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে কোন ভাবেই শফিক রেহমান জড়িত নয়। মাহমুদুর রহমানও জড়িত নয়। শুধু শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের প্রতি না গতকাল তারা বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছে। এটা সরকারের নার্ভাস নেসের অংশ। কারন দীর্ঘ স্বৈরাশাসন ও একদলীয় শাসনের ফলে জনগণ যখন অতিষ্ঠি ও ক্ষোভে ফুসছে সেই সময়ে বিরোধী দলকে আঘাত ও গণতন্ত্রের সকল পথকে সংকুচিত করে দেয়া সকল স্বৈরাচার ও একনায়কদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

জয় অপহরন ও হত্যা পরিকল্পনায় মাহমুদুর রহমানকে জড়ানোর সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব বলেন, একই কারনে সবগুলো মামলায় জামিন পাওয়ার পরও একটার পর একটি মামলায় তাকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হচ্ছে। নতুন করে যে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে এর কোনো ভিত্তি নেই। বানোয়াট একটি মামলা তৈরি করা হয়েছে। মাহমুদুর রহমান এই ধরনের চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত নন। তাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে মিথ্যাভাবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি কখনো প্রতিহিংসা বা চক্রান্তের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা। এই দলটি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করে। তাদের রায় নিয়ে বারবার ক্ষমতায় এসেছে। এখন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করে ২০ দলীয় জোট করেছি। এই জোটের পরিধি আরো বাড়াতে চাই। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সবাইকে এই আন্দোলনকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই।

বর্তমান সরকারের শাসনামলে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সরকারের কথা শুনলে মনে হবে বাংলাদেশে উন্নয়নের নহর বয়ে যাচ্ছে। অথচ আমরাও গ্রামে যাই, গ্রামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলি, কৃষক-শ্রমিক ভাইদের সঙ্গে কথা বলি। আমরা জানি কি নিদারুন কষ্টের মধ্য দিয়ে তারা দিন কাটাচ্ছেন।

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, কিছু কিছু বেতন বাড়িয়ে ভেবেছেন সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এভাবে হয়না। আপনি বেতন বাড়িয়ে যেটা করতে পারেন সেটি হচ্ছে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারেন। কিন্তু জনগণের প্রকৃত আয় বৃদ্ধি করতে পারেননা। বরং মুদ্রাস্ফীতির ফলে দ্রব্যমুল্য যে বৃদ্ধি পায় তাতে জনগণের প্রকৃত আয় আরো কমে যায়।

তিনি বলেন, জিডিপির ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও যে কথা বলা হচ্ছে তা অলীক কল্পনা। মুলত জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেশি বিনিয়োগকারীরা বিদেশে বিনিয়োগ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আসছেনা।

ন্য্যাশনাল পিপলস পার্টির সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক নিতাই রায় চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহার প্রমুখ।