Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:০৩ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

খালেদা জিয়া

বিএনপির দুর্দশা নিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে ‘খোলা চিঠি’

মহিউদ্দিন খান মোহন

বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ও দুর্দশা/দৈন্যদশার চিত্র তুলে ধরে বিএনপির সাবেক কর্মী দাবিদার জনৈক মহিউদ্দিন খান মোহন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কাছে অভিযোগ ও সুপারিশ সম্বলিত একখানা খোলা চিঠি দিয়েছেন। তিনি এখন থেকে ১৩ ঘন্টা আগে অর্থাৎ ৭ মে ২০১৭ তারিখে তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ খোলা চিঠিটি পোষ্ট করেন। এতে তিনি বিএনপির অসহায়ত্বের কথা ও কু-পরামর্শে পরিচালিত হওয়ার নানা দিক নিয়ে আলোকপাত করেছেন।

 

নিম্নে তার খোলা চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলঃ

মাননীয় দেশনেত্রীর প্রতি খোলাচিঠি
===================
শ্রদ্ধেয় দেশনেত্রী. অসসালামু আলাইকুম, আমি জানি এ খোলাচিঠি আপনার নজরে পড়বে না। তারপরও এটা লেখার উদ্দেশ্য হলো আপনাকে উপলক্ষ করে কিছু কথা বলা, যাতে বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থকরা কিছু বিষয় জানতে পারে।

ম্যাডাম, আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কোনো সুযোগ এ মুহূর্তে আমার নেই। কারণ, আপনার অফিসের দরজা যারা আগলে রেখেছে, আমি তাদের কাছে অবাঞ্ছিত। আবার ব্যক্তিগত চিঠি লিখলেও তা আপনার হাতে না পৌঁছানোর সম্ভাবনা এক শ’ ভাগ। তাই এ খোলাচিঠির আশ্রয় নেয়া।

ম্যাডাম, আপনি কি খেয়াল করেছেন, এদেশর গণমানুষের প্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপির বর্তমান দুর্দশা কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে? আজ বিএনপি রাস্তায় বেরুতে ভয় পায়। কর্মসূচি দিলে নেতাকর্মীরা আসেনা। কোনো ইস্যুতে কেন্দ্রীয় কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি নেয়া হয়না। এই তো সেদিন আপনার অফিস তল্লাশির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চাইল। কিন্তু সরকার দিল না। এর প্রতিবাদে কর্মসূচি দেয়া হলো মহানগরীর থানায় থানায় আর সরা দেশে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ মিছিলের। কেন, ঢাকা মহানগর বিএনপি কি কেন্দ্রীয়ভাবে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিতে পারতো না? নাকি সেটার জন্যও তারা সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় ছিল? যেদিন সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি পাওয়া গেল না, সেদিন কেন্দ্রীয় নেতারা কেন সেখানে গেলেন না? সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপি কি সরকারের একান্ত বাধ্যগত দলে পরিণত হয়েছে? সরকার অনুমতি দিলে দল রাজনীতি করবে, নাহলে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকবে?

শ্রদ্ধেয় দেশনেত্রী, এক সময় আমি বিএনপির কর্মী ছিলাম। গত বছরের ১২ আগস্ট দলের সাথে সব ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। প্রশ্ন করতে পারেন, কেন এ সিদ্ধান্ত নিলাম। আপনি জানেন দলের চরম দুঃসময়ে আমি আপনার ও দলের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু গত দু’টি কাউন্সিলেই আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এর পেছনে কলকাঠি নেড়েছে আপনার বিশেষ সহকারি শিমুল বিশ্বাস আর প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল। ম্যাডাম, আপনি একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন, দলের নেতা কর্মীরা এই দুইটা লোক সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করে। এরা আপনাকে দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী ও জনগণ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে গেছে। এরা আপনাকে ক্ষমতায় নিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এরা আপনাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাচ্ছে তা কি একবারও ভেবে দেখেছেন। দলে আাজ ত্যাগী, যোগ্য,নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের স্থান নেই। অবদান বা যোগ্যতা নয়, টাকাই এখন বিএনপিতে পদ পাবার একমাত্র উপায়। আপনাকে ঘিরে রাখা দুবৃত্তচক্রকে টাকা দিয়ে সস্তুষ্ট করতে পারলেই যে কোনোদিন বিএনপি করেনি, বিএনপির আদর্শে বিশ্বাস করে না, তারাও বড় বড় পদ বাগিয়ে নিতে পারে। ম্যাডাম, এর ফলে দলের নিষ্ঠাবান নেতাকর্মীরা দিন দিন হতাস হয়ে পড়ছে, দলের জন্য কাজ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে, কেউ হয়ে যাচ্ছে নিস্ক্রিয়। এগুলো আমার বানানো কথা নয়। গত কয়েক বছর ধরে আমার প্রিয় দলকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার উপলব্ধি।
প্রিয় দেশনেত্রী, দলকে যদি আবার জাগিয়ে তুলতে চান, কাঙ্খিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে চান, তাহলে ওই দুর্বৃত্তচক্রের বেড়াজাল আপনাকে ছিন্ন করতেই হবে। বেড়িয়ে এসে আপনাকে আবার হয়ে যেতে হবে সাধারণ নেতাকর্মীদের নেত্রী। যারা আপনাকে ঘেরাটোপে বন্দী করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে লিপ্ত, তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ম্যাডাম, বিএনপির কেন্দীয় কোনো দফতর সম্পাদক নেই। কিন্তু কেন? শুধুমাত্র দলে একজন বিশেষ ব্যক্তির আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য গত সাত বছর ধরে একজন দফতর সম্পাদক নিয়োগ দেয়া হয়নি। দলের মহাসচিবকে কৌশলে ঠুটোজগন্নাথ বানিয়ে রাখা হয়েছে। বক্তুতা- বিবৃতি দেয়া ছাড়া উনার কোনো কাজ নেই। উনার মূল দু’টি কাজের একটি করে রিজভী, আরেকটি করে মো. শাহজাহান। পৃথিবীর কোনো রাজনৈতিক দলে এমন ব্যবস্থা আছে বলে আমার জানা নেই।

ম্যাডাম, আরো অনেক বিষয় আছে, যা এই ছোট্ট পরিসরে বলা সম্ভব নয়। দলকে যদি সুসংগঠিত করতে চান, তাহলে কয়েক মাস আগে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এক খোলাচিঠিতে আপনাকে যেসব পরামর্শ দিয়েছেন সেগুলোর তাৎপর্য অনুধাবনের চেষ্টা করুন, সেমতে পদক্ষেপ নিন।

ধন্যবাদ ম্যাডাম।

শ্রদ্ধান্তে
আপনার সাবেক কর্মী
মহিউদ্দিন খান মোহন।