ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:২৩ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনে কমিশন

বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন করে চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য কমিশন গঠন করা হয়েছে।

বুধবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সুপারিশে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গঠনতন্ত্র সংশোধন করেন।

এরপর স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারকে প্রধান করে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন- ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ও হারুন-আর রশিদ।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন,  বুধবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারপারসন করা হয়। ওই বৈঠকে গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করা হয় এবং চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের  ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রের ১৯(ক) ধারা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্তে নেয়া হয়, জাতীয় কাউন্সিলের আগেই চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হবে।

এছাড়া বিএনপির আসন্ন ষষ্ঠ কাউন্সিল সফল করার জন্য দলের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তুতি কমিটি এবং ১১টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল জানান, জাতীয় কাউন্সিল ও সম্মেলন-২০১৬ প্রস্তুতি কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। সম্মেলনে উপলক্ষে গঠিত ১১ উপ-কমিটির আহ্বায়করা এ কমিটির সদস্য।

বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের ১১টি উপ-কমিটির আহ্বায়ক হলেন-অভ্যর্থনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঘোষণাপত্র উপ-কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, শৃঙ্খলা উপ-কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ড্রাফটিং উপ-কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, ব্যবস্থাপনা ও প্রচার উপ-কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক শফিক রেহমান, প্রকাশনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ-আল নোমান, চিকিৎসা উপ-কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, তথ্য ও যোগাযোগ উপ-কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির আহ্বায়ক বিএনপি সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক গাজী মাজহারুল আনোয়ার।

এছাড়া অর্থবিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে এখনও পর্যন্ত কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে কাউন্সিল করার জন্য অনুমতির চেয়ে ৩টি স্থানের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি কোথায় কাউন্সিল হবে। এখনও আমরা অনুমতি পাইনি। তবে আশা করছি দুই-একদিনের মধ্যে জানতে পারব।

বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় কাউন্সিল হতে পারে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির এই নেতা বলেন, সভা নিয়ে পত্র-পত্রিকায় যেসব সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তার সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্তের  কোনো মিল নেই। এজন্য আমরা বলে থাকি, আমরা যতক্ষণ না, আপনাদের বলি ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিবেদন করবেন না।

মির্জা ফখরুল জানান, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের একটি গভীর চক্রান্ত, দেশকে রাজনৈতিক শূন্য করা ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার হীন ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করা হয়েছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্যই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সভা থেকে এ মামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় ও সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসেন উপদেষ্টা এমএ মান্নানসহ রাজনৈতিক বন্দি এবং সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ ও আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ আটক সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে স্থায়ী কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, অর্থবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।